da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: শিরীন <{<< ভৌতিক রহস্য গল্প-
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Monday, December 11, 2017

শিরীন <{<< ভৌতিক রহস্য গল্প-

Scary person in white dress standing close to bathtub,Scary background for book cover


শিরীন <{<<
ভৌতিক রহস্য গল্প- 
...৩য় পর্ব
"(শেষ অংশ)"
...
... আঞ্জুমান
আমাকে শান্ত্বনা
দিয়া বলিল যে, ভাই, আপনি চিন্তা করিবেন না। আল্লাহই
সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন। সন্তান বাঁচিয়া নাই
শুনিলে আপনার স্ত্রী মানসিক আঘাত পাইবেন।
সেইরকম কিছু হইলে আমি আমার পুত্র আদনানকে
আপনার স্ত্রীর কোলে রাখিয়া যাইব। (বুঝিলাম
আঞ্জুমান তাহার ছেলের নাম রাখিয়াছে আদনান।)
আপনি আমাকে বাঁচাইয়াছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার
ঘরে আমার ছেলে বাঁচিয়া
থাকিবে। ... আমি আর কী বলিব। আমার তখন তরুণ
বয়স। যথাযথ সিদ্ধান্ত লইতে কার্পণ্য করিতাম।
রেহনুমার মুখের দিকে চাহিয়া আমি নীরব থাকিলাম।
যথাসময়ে
রেহনুমা মৃত এক কন্যাসন্তান প্রসব করিল। অবশ্য
সে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান লইয়াই আনন্দিত মনে
হাসপাতাল হইতে ঘরে ফিরিল। আমিই কেবল শিশুটির
প্রকৃত পরিচয় জানিলাম। আর কেহ জানিল না, এমন কী
হাসপাতালের নার্সও না। আমি জানি রোকন আমাদের
সন্তান নয়, সে আঞ্জুমান-এর সন্তান। বিস্ময়কর
হইলেও সত্য যে সে উলির বিলের জ্বীন
পরিবারের একজন।
... পড়তে পড়তে আমার শরীর হিম হয়ে এল।
আশ্চর্য! রোকন ভাইয়া জ্বীন। আর বাবা সেটা
জানত। কথাটা বাবা মাকেও কখনও বলেনি। এখন সব
মিলে যাচ্ছে। ভাইয়া ছেলেবেলায় মাঝে-মাঝে
হারিয়ে যেত। পুলিশে খবর দিয়ে কিংবা সংবাদপত্রে
বিজ্ঞাপন ছাপিয়েও নাকি কোনও লাভ হত না। আমি
এখন জানি কেন লাভ হত না। আঞ্জুমান মনে হয় ওর
ছেলেকে নিয়ে যেত? কোথায়? উলির বিলে?
ওই ভৌতিক ঘটনায় মা ভীষন ভয় পেলেও বাবা কেন
যেন নিশ্চিন্ত ছিল। আমি এখন জানি বাবা কেন নিশ্চিন্ত
ছিলেন। বাবা আরও
লিখেছে ... জিলানী ইহার পরেও আবার একদিন
আমার
কাছে আসিয়াছিল। সে মিষ্টি লইয়া আসিয়াছিল। আদনান-
এর আকিকার মিষ্টি। সে আরও একটি আনন্দের সংবাদ
দিয়া সে বলিল, ফাহমিদা নামে আঞ্জুমান -এর এক
বোন আছে। আজই ফাহমিদার একটি কন্যা সন্তান
হইয়াছে। ফাহমিদা তাহার কন্যা
সন্তানের নাম রাখিয়াছে শিরিন। এই পর্যন্ত লেখার
পর অনেক গুলি পৃষ্ঠা ফাঁকা। অন্য বিষয়ে লেখা।
ব্যাঙ্কে
ফিক্সড ডিপোজিট এর হিসাব আর ডাক্তার বন্ধুদের
নিয়ে একটা নাসিংহোম দেওয়ার বর্ণনা। ব্যাঙ্ক
লোন
আর বিনিয়োগের টাকার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জমি
বিক্রির কথা। হঠাৎ একটি পৃষ্ঠায় আমার চোখ আটকে
গেল।
তারিখ মিলিয়ে দেখলাম বাবার সাত দিন আগে। বাবা
লিখেছে: গতকাল চেম্বারে বসিয়াছিলাম। জিলানী
আর তার স্ত্রী আঞ্জুমান আসিল। আঞ্জুমান কে
অনেক বৎসর পরে দেখিলাম। এতকাল পরেও
মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দরীই
রহিয়া গিয়াছে দেখিলাম। আঞ্জুমান সালাম দিয়া আমাকে
বলিল ... তাহার বোন ফাহমিদার ইচ্ছা সে তাহার কন্যা
শিরিনের সঙ্গে তাহার ছেলে আদনান- এর বিবাহ
দিবে। এই কথা শুনিয়া আমি হতভম্ভ হইয়া গেলাম। আমি
বিস্ফারিত নয়ানে আঞ্জুমানের দিকে চাহিয়া রহিলাম।
আমি বিড়বিড় করিয়া বলিলাম: ইহা কী করিয়া হয়?
আঞ্জুমান আমাকে বলিল, আপনি ভাবিবেন না। ফাহমিদারা
এখন ঢাকায় থাকে। ওয়ারি। আর আল্লাহর
ইচ্ছায় শিরিন এই বৎসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত
বিভাগে ভর্তি হইয়াছে। এই বলিয়া আমাকে কিছু বলিবার
অবকাশ না- দিয়াই জিলানী আর আঞ্জুমান অদৃশ্য হইয়া
গেল।আমার স্মরণ হইল বহু বৎসর পূর্বে ঠাকুরগাঁও
সদর হাসপাতালে আঞ্জুমান আমাকে শান্ত্বনা দিয়া
বলিয়াছিল যে, ভাই, আপনি চিন্তা করিবেন না। আল্লাহই
সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন। আল্লাহই যখন
সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন তখন আমি জানি যে
এই বিবাহ হইবেই। জানিনা সমস্ত শুনিলে এত বৎসর
পরে রেহনুমার
মানসিক অবস্থা কিরূপ হইবে। যাহা হউক, আল্লাহ
আমাকে বিবাহ পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকিবার তৌফিক দিন ...
না, আল্লাহ, বাবার দোয়া কবুল করেন নি। আমি
দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আমি কি ডায়েরির কথা মাকে
জানব? নাহ্, ঠিক হবে না। মার শরীরের যা অবস্থা।
মাকে জানাবো না বলে ঠিক করলাম। আমার ঘরে
ডায়েরিটা লুকিয়ে রাখব ঠিক করলাম। একরাতে
খেতে বসে রোকন ভাইয়া বলল,
মা, কাল তুমি দুপুরে কাচ্চি বিরানি রেঁধ। কেন রে?
বলে মা ভাইয়ার প্লেটে রুটি তুলে দিল। ভাইয়া রাতে
ভাত খায় না। রুটি আর দুধ খায়।কখনও এক টুকরো
ফল।
দুধের বাটিটা টেনে ভাইয়া বলল, কাল ইউনিভার্সিটি
থেকে আমার এক ক্লাসমেটকে নিয়ে আসব।ও
দুপুরে খাবে। বেশ তো। বলে চিনির কৌটা খুলতে
লাগল মা। আমার বুক ধক করে উঠল। ভাইয়া
‘ক্লাসমেট’
বলল। ইস্ কতদিন পর আমার স্বপ্ন পূরণ হতে
যাচ্ছে! আমি কতদিন স্বপ্ন দেখেটি ভাইয়া একদিন
ওর এক বন্ধুকে বাসায় নিয়ে আসবে। খুব সুন্দর।
লম্বা আর ফরসা। (এত সুন্দর যে ফরিদা দেখে
জ্বলে পুড়ে মরবে) তার সঙ্গে আমার পরিচয়
হবে। ভাইয়ার ক্লাসমেট ছেলেটা কি খুব সুন্দর?
কাল তাহলে আমি শাড়ি পড়ব। আর
বোরহানি আর ফিরনিটাও আমিই রাঁধব। মা আপেল
কাটতে কাটতে বলল, তা তোর বন্ধুর নাম কি রে
রোকন? শিরিন। ওহ্ । মা আমার দিকে তাকালো।
মাকে
কেমন হতভম্ব দেখাচ্ছে। মুখচোরা ছেলের
যে মেয়েবন্ধু থাকতে পারে তা সম্ভবত মায়ের
বিশ্বাস হচ্ছিল না। মা জিজ্ঞেস করল, তা মেয়েটা কই
থাকে রে? ঢাকায়? না হোস্টেলে থেকে
পড়ে? না মা, শিরিনরা ঢাকায় থাকে।
ঢাকায় কোথায়? ওয়ারী. আমি মোটেও অবাক হলাম
না. কারন পরবর্তীতে কি হবে এটাও আমি জানি বাবার
ডায়েরী পড়ার কল্যানে. এখন আমি অপেক্ষায়
আছি অনিন্যসুন্দর শিরীন এর মুখচ্ছবি খানা দেখার
জন্য. কারন ওই তো হবে আমার ভাবি...

No comments:

Post a Comment