da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: দ্য ডেথ্লি হাউজ_
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Monday, December 11, 2017

দ্য ডেথ্লি হাউজ_




Scary person in white dress standing close to bathtub,Scary background for book cover
দ্য ডেথ্লি হাউজ_____
.

.
পর্ব:৪
.
উপরে তাকালাম। উপরে মস্ত বড় আকাশ। তবে আমরা তো ঐ বাড়ির ফ্লোর দিয়ে উপর থেকে নিচে এসেছি। বাড়ির নিচে আরেকটা জগৎ!
সামনে, ডানে, বামে ঘন সবুজ গাছপালা। আর পেছনে বড় একটা খাদ।
"এই আমরা কোথায় চলে এসেছি?" আতংকের সাথে বলল মাহফুজ।
"এটা মনে হয় এনিমিজম ধর্মের উপাসকদের জগৎ। আর জেরিনকে নিশ্চয় এখানে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে।"
"হুম, তবে এখানে তাকে খুঁজতে অত সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না।" গম্ভীর স্বরে বলল আভা।
"হুম, এটা আমাদের সামনে বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ।"
এবার আমরা সবাই হাঁটা শুরু করলাম। চারিদিকে পিন পতনের নীরবতা। আমাদের প্রতিটি ফুট স্টেপে সৃষ্টি হওয়া শব্দ প্রতিনিয়ত শিহরিত করে তুলছে। কোনদিকে যেতে হবে তা জানা নেই।
হঠাৎ আভার চিৎকার শুনিতে পেলাম। আশেপাশে সে নেই। এতক্ষন সে আমাদের সাথেই তো ছিল। মূহুর্তেই কোথায় মিলিয়ে গেলো সে?
আমি তার নাম নিয়ে একবার চিৎকার করতেই একটা অর্থবোধক বাক্য কানে আসল, "আমাকে বাঁচাও, আমি একটা জালের ভেতর আটকিয়ে গিয়েছি।"
উপরে তাকিয়ে দেখলাম, সে বড় একটা গাছের সাথে বাঁধানো বড় একটা ফাঁদের ভেতর আটকিয়ে গিয়েছে। সেখানের ভেতর তাকে দেখেই বড় হাস্যকর লাগছে।
"এখন তাকে কিভাবে নামানো যায়?" বলল তানভীর।
"আমি থাকতে ভয় কিসের? আমি তাল গাছে পর্যন্ত উঠেছি, এই গাছটাতো কিছুই না" বড়ই উৎফুল্লের সাথে বলল মাহফুজ।
"আরে, তাড়াতাড়ি কিছু কর না তোমরা" বড়ই অসহায়ত্ব কন্ঠে বলল আভা। হঠাৎ পেছনের ঝোপঝাড় থেকে শব্দ এলো। পেছনে তাকালাম। কিছুই নেই। আবার শব্দটা হল। ঠিক তখনই সেখান থেকে একটা দুই হাত-পায়ের উপর ভর দেয়া একজন মানুষ বেরিয়ে আসল। তার চোখ দুটো টকটকে লাল। দেখেই তাকে বড়ই ক্ষুধার্ত লাগছে। সে বড়রকমের একটা গর্জন দিল। মানুষও যে এরকম গর্জন করতে পারে, তা আমার জানা ছিল না। তখনই দুই পাশ থেকে আরো দুটো পশু থুক্কু পশানুষ বেরিয়ে এলো।
"এই পশানুষগুলো তো দেখি আমাদের মানুষের মতই এডভান্স। তারাও এরকম ফাঁদ বেঁধে শিকার করে এরপর দলবল নিয়ে আসে।" বললাম আমি
তানভীর বলল, "পশানুষ কি আবার?"
"পশু আর মানুষকে একত্রে করলে হয় পশানুষ।"
ততক্ষনে তিন পশানুষ আমাদের সামনে চলে এলো এবং আমাদের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে লাগল। হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন তানভীরের উপর লাফ দিল। তানভীর সাথে সাথে পড়ে গেল। সে পিশানুষটার সাথে যুদ্ধ করছে। তাকে আমিও কিছু করতে পারছি না। কারণ আমার সামনে আরেকটা দাঁড়িয়ে আছে। আমি ডানে গেলে সে ডানে তাকায়, বামে গেলে বামে। তীক্ষ্ম দুই চোখের চাহনি। আমি আমার পকেটে হাত রাখলাম। মূহুর্তেই সে আমার উপর লাফ দিল। তার ধাক্কায় আমিও পড়ে গেলাম। কিন্তু সে আমার কিছু করতে পারেনি। কারণ আমি ততক্ষণে তার পেটে আমার ড্যাগার ঢুকিয়ে দিয়েছি। তার নিথর দেহ আমার শরীরের উপর। চোখ দুটো খোলা। পাশে দেখলাম তানভীর এখনো ঐটার সাথে যুদ্ধ করছে। আমি উঠে একটা লম্বা ডাল হাতে নিলাম। এরপর দেহের সর্বশক্তি দিয়ে মারলাম ঐ শালার পিশাচটার মাথায়। সাথে সাথে পিশাচটা উঠে দাঁড়ালো, আবার গিয়ে পড়ল তানভীরের উপর। ফইন্নি মাহফুজ এতক্ষন গাছের মগডালে বসে বাংলা সিনেমা দেখছিল। সে বলল, "আভা আর কথা বলছে না। সে মনে হয় এখানেই বেহুঁশ হয়ে গেছে।"
আমি বললাম, "আগে তাকে নিচে নামিয়ে আনো, এরপর এর ব্যবস্থা করা হবে।
.
আলো কমে এসেছে। এই জগতেও আমাদের জগতের মত সকাল-সন্ধ্যা হয়। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে এই জঙ্গলে হাঁটলে বিপদ হতে পারে। এই জঙ্গলে চলতে হলে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
একটা খালি আর উঁচু জায়গা দেখে সেখানে ক্যাম্প করলাম। গাছের ডাল, বড় পাতা ইত্যাদি নিয়ে একটা বড়সড়, চার জন থাকা যায় মত একটা ছোটখাটো ঘর করলাম। রাত হতে হতেই তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। এই জগতের সব নিয়মধারা আমাদেত জগতের মত। নিজেকে বেয়ার গ্রিলস্ এর মত লাগছে। ক্যাম্পের সামনে আগুন জ্বালালাম। এতে মানব পশু থেকে নিরাপদে থাকা যাবে। পশুরা যদি আগুনকে ভয় পায়, তাহলে তারা পাবেনা কেনো?
বাতাসে আগুনের শিখা দুলছে। সবাই ঘুমুচ্ছে। আমাকে আগুনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখন চিন্তার বিষয় হচ্ছে জারিনকে কোথায় পাওয়া যাবে আর এখানে কতদিনই বা থাকতে হবে..
.
চলবে.....
.
আজ ব্যস্ত থাকার কারণে পর্ব ছোট হয়েছে। পরের পর্ব থেকে বড় করে দেয়া হবে।
গল্পটা কেমন লাগছে তা অবশ্যয় কমেন্ট দ্বারা জানাবেন।

No comments:

Post a Comment