da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: ঘটনাটা আমার জীবনে ঘটেনি।
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Monday, December 11, 2017

ঘটনাটা আমার জীবনে ঘটেনি।





Ghosts hand silhouette behind the glass





ঘটনাটা আমার জীবনে ঘটেনি। ঘটনার পত্যক্ষদর্শী হচ্ছে আমার এক আপা। আপা এবং চাচী (আপার মা) বিশাল বাড়ীতে একা থাকতেন। আপার কোন ভাই বোন ছিল না। চাচা থাকতেন সৌদি আরবে। বিশাল বড় বাড়ীতে আপা এবং চাচী ছাড়া অন্য কেউ থাকত না। ধানের মওসুম হলে একজন মমিসিংঙ্গা রাখা হত। আমাদের এলাকায় ময়মনসিংহ থেকে আসা কাজের মানুষদের ঐ নামেই ডাকা হত। তখন ধানের মওসুম ছিল। কাজের লোকটাও বাড়িতে ছিল। ওর জন্য আলাদা ঘরের বন্দোবস্ত ছিল। একদিন রাত। দশটা হবে এমন সময় দুইজন লোক এসে বলল, তারা বিপদে পড়েছে তারা এক রাত থাকতে চায়। গ্রামের বাড়ীতে এটা কোন বিষয় না। কোন লোক বিপদে পড়লে তাকে সব বাড়িতেই থাকতে দেওয়া হত। লোকদুটিকেও থাকতে দেওয়া হল। মূল ঘরে যেহেতু দুইজন নারী ছাড়া আর কেউ ছিল না তাই কাজের লোকটির সাথেই তাদের দুইজনকে থাকতে দেওয়া হয়। আপার ইন্টার পরীক্ষা ছিল। তিনি রাত জেগে পড়তেন। রাত তখন বারোটা বাজে এমন সময় তিনি অদ্ভুত কিছু শব্দ শুনতে পান। উনি শব্দটাকে তেমন পাত্তা না দিয়ে পড়তে থাকেন। শব্দটা ক্রমেই বাড়ছে। একটা সময় তিনি শুনতে পান কসাই যেরকম করে গরুর মাংস কাটে এরকম করে কেউ মাংস জাতীয় কিছু একটা কাঁটছে। সাথে সাথে মানুষের কান্নারও একটা শব্দ পান। আপা ভয় পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে চাচীকে ঘুম থেকে তুললেন। চাচী এবং আপা মিলে শব্দটা শুনার চেষ্টা করেন। উনি স্পষ্ট শুনতে পেলেন কেউ কসায়ের মত মাংস কাঁটছে। একটা লোকের তীব্র চিৎকার ভেসে আসছে। কান পেতে চিন্তা করতে লাগলেন শব্দটা কোথায় থেকে আসছে। কান পেতেই বুঝলেন কাজের লোকটি যে ঘরে থাকে সেই ঘর থেকেই শব্দটা আসছে। তৎক্ষণাৎ মনে পড়ল, আজকে বাড়ীতে দুইজন অতিথি এসেছিল। তাদের থাকতেও দেওয়া হয়েছিল পাশের ঘরেই। চাচী ডর ভয়হীন মহিলা ছিলেন। তিনি নাকি জ্বীন ভূত তাড়াতেন এরকম একটা কথা প্রচলিত ছিল। তিনি ঘর থেকে বাহির হয়ে এলেন। আপা বারবার বলছিল, যেন ঘর থেকে বাহির না হয়। চাচী ঘর থেকে বাহির হয়ে পাশের ঘরে যেখানে কাজের লোকটা থাকে সেখানে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা। তিনি দরজার ফাঁক দিয়ে উকি মারেন। উকি মেরে যা দেখলেন তাতে উনার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কথা। উনি কেন অজ্ঞান হলেন না তা কেউ বলতে পারে না। উনি গিয়ে দেখলেন লোকদুইটা কসাইয়ের মত কাজের লোকটার মাংস কেটে খাচ্ছে। সাই যেরকম করে চামড়া ছোলে মাংস খায় তারাও সেরকম করে কাজের লোকটার শরীর থেকে মাংস কেটে কেটে খাচ্ছে। লোকটা কয়েকটা চিৎকার দিয়েই হয়ত মারা গেছে। চাচী দেখতে লাগলেন, ওরা মাংস খেয়ে শরীেরর হাড় খাচ্ছে। হাড়ের প্রতিটি শব্দ চাচী শুনছেন। এত জোড়ে জোড়ে হার চিবুচ্ছে মনে হচ্ছে পুরা গ্রাম জেগে উঠবে। ওদের খাওয়া শেষে দরজা দিয়ে বাহির হয়ে চাচীকে বললেন, যা দেখছস তা কারো কাছে বলবি না। বললে অবস্থা খারাপ করে দিমু। তোর কপালভালো, আমাদের আলগা করে না দিলে তোর আর তোর মেয়ের উপর দিয়ে যাইত। একদম চুপ মাইরা থাকবি। এরপর চাচীর কি হল তা চাচী বলতে পারে না। আপা এত দেরী হচ্ছে দেখে ঘর থেকে বাহির হল। চাচীকে খোঁজতে লাগল। আপা জানত, চাচী অনেক সময় রাতে ঘুম না আসলে হাঁটাহাঁটি করত। তবুও আজকে আপার কাছে অন্যরকম লাগছে। একটু পরে চাচী ফিরে আসলেন। চাচী আপাকে কিছু না বলে ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিল। আপা চাচীকে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগল কি হয়েছে। কিন্তু চাচী কোন কিছু বলতেই রাজি নয়। সকাল বেলা আপার জুরাজুরিতে চাচী সব ঘটনা খুলে বললেন। আপা ভয়ে কাবু হয়ে যায়। সকাল হতেই একটা খবর গ্রামে রটে যায়। গ্রামের পাশের রাস্তার ধারে গ্রামবাসীর কবর ছিল। সেখানে নাকি একটা মৃত লাশ পাওয়া যায়। সবার নিকট ছড়িয়ে পড়ে যে, কবর থেকে রাক্ষস নাকি বের হয়ে এসেছে। কবরের পাশ দিয়ে যাওয়া লোকদের ধরে রাক্ষস খেয়ে ফেলে। চাচী খবরটি শুনে আলগা ঘরে যায়। যে ঘরে কাজের লোকটি ছিল। কোন চিহৃই দেখতে পায় না। গত কালেরঘটনার কিছুই আলামত খুঁজে পায় না। কাজের লোকটিকেও পাওয়া যায় না। যারা মওসুমের সময় কাজ করতে আসত তাদের নিয়ে কারও মাথাব্যাথা ছিল না। তারা কাজ শেষে কখন চলে যেত আবার কখন আসত তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাত না। চাচী কাজের ছেলেটাকে নিয়ে মাথা ঘামাতে লাগলেন। অনেক খুঁজেও কাজের ছেলেটাকে পাওয়া গেল না। তিনি কবরের পাশে গেলেন। গিয়ে দেখেন গতকাল রাতের হাড্ডিগুলি যেমন লোকদুটিকে খেতে দেখেছেন ঠিক তেমনি। তিনি ঐ খান থেকে এসে গ্রামবাসীকে গতকালের ঘটনাটি বললেন, গ্রামের কেউ বিশ্বাস করতে চাইল না তাদের কথা হচ্ছে ঘুমের ঘুরে তিনি নাকি দেখেছেন। কবরের পাশে মৃত লোকটি কে প্রশ্ন করলে কেউ বলতে পারে না। সবার নিকট ছড়িয়েছে রাক্ষস কবর থেকে বের হয়েছে যে কোন সময় যেই কাউকে খেয়ে ফেলতে পারে। সবাইকে সাবধান করা হয়। ছোট বাচ্চাদের বেশি সাবধান করা হয়। চাচী ঠিকানা নিয়ে কাজের লোকটির বাড়িতে গেলেন। গিয়ে শুনেন, তার কেউ নেই। কোথায় থাকে, কোথায় যায় তা কেউ জানে না। সুতরাং তাকে নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতে চাইল না। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। কয়েকদিন পরের ঘটনা। চাচীর দূর সম্পর্কের এক ভাই রাত আগের মতই দশটার দিকে আসে। ঘটনাটা একটু খুলে বলা দরকার। রাত দশটা বাজে। আপা পড়ছিল। এমন সময় দরজায় একটা শব্দ হল। আপা কয়েকদিন আগের ঘটনাতে এমনিতেই ভয়ে ছিলেন। চাচীও কেমন যেন ভয়ে মিওয়ে গেল। দরজা খুলল না, আবার একসাথে তিনটি শব্দ হল, এর পর পাঁচটি, সাতটি, নয়টি শব্দ হল। কেউ রজা খুলতে গেল না। বাহির থেকে চিনা পরিচিত একটা শব্দ আসল বুবু। মা তখন বললেন, কে? বাহির থেকে লোকটা বলল, বুবু দরজা খোল। তোমাদের কিহয়েছে। দরজা খোলে দেখা গেল আপার মায়ের দুর সম্পর্কের এক ভাই। আপার মামা হয়। আপা এবং চাচী মামাকে দেখে খুশিই হলেন। ঘটনাটির পর থেকে একা একা থাকতে বাড়িতে ভয় পেতেন। একজন পুরুষ মানুষ থাকলে ভাল হয়। মামাকে দেখে আপা অনেক খুশি হলেন। রাতের খাওয়া দাওয়া এক সাথে হল। মা সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। আপার কাছে মামাকে কেমন জানি সন্দেহ হল। পায়ের দিকে তাকালে পা দেখতে পাচ্ছেন না। কখনও পা উল্টা দেখেন, আবার কখনো ঠিকই দেখেন। রাতের খাবার সময় দেখেন উল্টা হাতে ভাত খাচ্ছে। চাচীর এদিকে কোন খেয়াল ছিল না। নিজের ভাইকে পেয়ে এ কথা সেই কথা বিভিন্ন কথা বলতে লাগলেন। আপা নিজেকে সান্ত্বনা দিলেন হয়ত কয়েকদিন আগের ঘটনার জন্যই এমনটা ঘটছে। তেমন গুরুত্ব না দিয়ে পড়তে বসলেন। মামাকে বাহিরের ঘরে পাঠানো যায় না। তিনি মেইন ঘরেই থেকে গেলেন। রাত ঠিক বারটা হবে। আগের দিনের মত শব্দ শুনলেন। আপার ভয়ে শরীর কাঁপতে লাগল। মামাকে রাতেই সন্দেহ হয়েছিল। আপা সাথে সাথেই চিৎকার দিয়ে উঠলেন। শব্দটা বাড়ছেই। আলগা বাড়ি সুতরাং আপার চিৎকার শুনে কেই আসবে না। আপা নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। আপার মানে হতে থাকে কাজের লোকের মত মায়ের অবস্থা হতে পারে। যে করেই হোক মাকে বাঁচাতে হবে। টজ লাইট এবং লোহার রড নিয়ে মায়ের রুমে গেলেন। গিয়ে দেখেন মামা রুপি মানুষটা মায়ের উপর বসা। আপা চট করে লাইট জ্বালালেন, হাতের রডটা নিয়ে এগিয়ে গেলেন। মামা রুপি মানুষটা মুহুর্তের মর্ধেই অদৃশ্য হয়ে গেল। মায়ের অবস্থা তখন খারাপ।
উনাকে ঐ রাতেই হাসপাতালে নেওয়া হল। উনি কয়েকদিন মৃত্যুর সাথে লড়ে মারা গেলেন। কেউ ঘটনাটা বিশ্বাস করতে চাইল না। এমনকি ডাক্তার রাও। ডাক্তার বললেন,হার্ড এ্যাটার্কে মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল সামলাতে পারেন নি। কাউকে বিশ্বাস করানো যায় নি মার মৃত্যু হয়েছে অশুভ জ্বিনের হাতে।

No comments:

Post a Comment