da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: পানির ভূত
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Sunday, December 10, 2017

পানির ভূত

Out from the dark,Portrait of scary girl staring at cameras,Ghost girl hiding from the dark,Horror background for halloween



পানির ভূত
তড়িঘড়ি করে বাড়ির পথ ধরল রাকিব। সন্ধ্যা হয়ে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। একটু সামনে এগুলেই হাতের বামে একটা বড় পুকুর। পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একটা ঝোপ। এমন সময় হালকা একটা বাতাস বইল। হঠাৎ কেমন যেন গা ছমছম করে উঠল রাকিবের। একটা ভয় চেপে বসল। রাকিব একবার আশপাশে তাকাল। কেউ নেই। পুকুরের পাশ দিয়ে হাঁটা ধরল আবার। পুকুরের শেষ সীমানায় এসে ডানদিকে মোড় নিতেই থমকে দাঁড়াল ও। কয়েক মুহ‚র্ত চুপ মেরে দাঁড়িয়ে রইল। সে কি ভুল দেখেছে। বুঝতে পারছে না। আরেকবার যে তাকাবে সে সাহসেও কুলোচ্ছে না। কিন্তু পানির ভেতর থেকে ওরকম আলো ঠিকরে বের হবে কেন?
লম্বা একটা দম নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় রাকিব। সঙ্গে সঙ্গে চমকে ওঠে। পুকুরের কিনার দিয়ে বেশ অনেকখানি পানিজুড়ে কেমন যেন আলো বের হচ্ছে। পুরো পুকুরটি অন্ধকার থাকলেও এই জায়গায়টা বেশ আলোকিত। রাকিব আর সাত পাঁচ ভাবল না। সোজা এক দৌড়। দৌড়ে রাকিব বাড়ির পথ ধরল না। অন্য রাস্তা দিয়ে ফাহিমদের বাসায় গিয়ে উঠল। বাসায় না ঢুকে ফাহিমের ঘরের জানালায় উঁকি দিল রাকিব। ফাহিমকে দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় বাসায় আসেনি এখনো। ঘুরে দাঁড়াতেই লাফ দিয়ে চমকে ওঠে রাকিব।
ভয় পেলি?
এভাবে কেউ পেছনে এসে দাঁড়ায়?
তুই এমন চোরের মতো ঘরে উঁকি মারছিস কেন?
তোকে খুঁজছিলাম।
কেন?
আমার সঙ্গে চল একটা জিনিস দেখাব।
এখন তো যাওয়া যাবে না। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া নিষেধ। পড়তে হবে।
তোর মাকে বলে আয়। আমি তোকে নিতে আসছি। একটু পরেই চলে আসবি। যা বলে আয়।
ফাহিম ঘরের ভেতর গিয়ে একটু পরেই আবার ফিরে আসল। চল যাই। কিন্তু কি দেখাবি?
আয় আমার সঙ্গে। ভয়ানক জিনিস। আমার সাহসে কুলাচ্ছে না। তাই তোকে নিয়ে যাব। তবে এতক্ষণ আছে কিনা কে জানে?
কি জিনিস?
আয় আমার সঙ্গে।
দু’বন্ধু মিলে হাঁটতে হাঁটতে পুকুরের কাছে চলে আসল। ভাগ্য ভালো। এখনো আছে মনে হয়। ফাহিমের হাত ধরে টেনে পুকুরের কাছে চলে আসে রাকিব। কিছু বলার আগেই ফাহিমের মুখ হাঁ হয়ে যায়। মুখ বন্ধ কর, মশা ঢুকবে।
খপ করে মুখ বন্ধ করে ফাহিম।
কি এটা! রাকিব আমার কিন্তু ভয় করছে। জিন পরী না তো! চল চলে যাই।
দাঁড়া। পুকুরের কাছে যাব না। দূর থেকেই দেখব। একটু অপেক্ষা করি। কিছু না হলে বাবাকে ডেকে নিয়ে আসব।
দরকার নেই। চল বাড়ি যাই।
ফাহিমকে আর ধরে রাখা গেল না। সোজ দৌড়। ফাহিম দৌড় দেয়াতে রাকিবের আর সাহসে কুলোয় না। ও দৌড় দেয়।
বাড়ি এসে হাঁপাতে থাকে ও। ঘরে ঢুকতে যাবে তখন দেখে বাবা দরজায় দাঁড়িয়ে। এক রুদ্রমূর্তি।
তুই এখনো বাইরে কি করছিস?
রাকিব থতমত খেয়ে যায়।
কথা বলছিস না কেন?
বাবা একটা জিনিস দেখতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে।
কি জিনিস?
আমার সঙ্গে এসো।
কোথায়? নরম সুরে বলল রাকিবের বাবা।
এসো, কথা শেষ করেই হাঁটা ধরে রাকিব। পেছনে ওর বাবাও আসতে থাকে। পুকুরের কাছাকাছি আসতেই হাত দিয়ে ইশারা করে রাকিব। ওর বাবা পুকুরের দিকে এগিয়ে যায়। পুকুরের পানি ঠিকরে আলো বেরিয়ে আসছে।
বাবা এটা কি!
কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যায় রাকিবের বাবা। গ্রামের এলাকা। জিন-ভূতের নানান কথা আছে। একেবারে বিষয়টা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ততক্ষণে গ্রামের আরো কয়েকজন লোক এসে ভিড় জমিয়েছে। একেকজন একেক কথা বলছে। ফাহিমও এসেছে। তাদের বেশিরভাগ কথাই জিনদের ঘিরে। নানান ভয়ের কথা বলছে একেকজন। কিন্তু বিষয়টা একবার দেখা দরকার। রাকিবের বাবা বলে। তোমার তো দেখি বড্ড সাহস। নিজের ক্ষতি ডেকে আনতে চাও নাকি। এক বৃদ্ধ ফোড়ন কাটে।
চাচা আপনাদের কথা আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিষয়টার সমাধান তো দরকার। আমার বাবা খেয়েদেয়ে কাজ নেই। বুড়ো বয়সে ভূতের কবলে পড়তে চাই না। লোকজন বাড়তে লাগল। অনেকে আবার ভয়ে কেটে পড়ছে। এটা আর কিছুই না। এটা নাগিনীর মণি। পানির নিচে রেখে কোথাও হয়তো গেছে। তাই ওইখান থেকে আলো আসছে। এক লোক গড়গড় করে বলে ফেলল কথাগুলো।
লোকজন হুটহুট করে কমে গেল। সাপের কামড় খাওয়ার চেয়ে চলে যাওয়া উত্তম।
তাহলে তো মণি উদ্ধার করে ধনী হতে হয়। রাকিবের বাবা একটু হাসি দিয়ে বলল। সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।
বাবা তুমি কি পানিতে নামবে?
নামতে মনে হয় হবেই। মণি বলে কথা। ধনী হয়ে যাব নিমিষেই। কি বলিস?
আমাদের ধনী হওয়ার দরকার নেই বাবা। তুমি পানিতে নামবে না।
হো হো করে হেসে উঠল রাকিবের বাবা। কাপড় গুটাতে শুরু করলেন তিনি।
আর কেউ আছে আমার সঙ্গে পানিতে নামবে? মণির অর্ধেক ভাগ দেব। কথাটা শেষ করে হাসতে লাগলেন তিনি। কাউকেই পাওয়া গেল না। সবার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে সবাই তার দিকে।
শোন রাকিব, আমি পানিতে নামব। এদিকটা তেমন গভীর না। কোমর সমান পানি হবে। প্রথমে পা দিয়ে দেখব, না হলে তারপর ডুব দিব। ভয় করবি না। মনে সাহস রাখবি।
কথা শেষ করেই হাসতে লাগলেন রাকিবের বাবা। তিনি নেমে পড়লেন পানিতে। নামার কারণে চারপাশের পানিটা ঘোলা হয়ে আসতে লাগল। তারপরেও আলো ঠিকই বের হয়ে আসছে পানির ভেতর থেকে। রাকিব মুখে হাত দিয়ে দম বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। তার বাবা পা দিয়ে পানির নিচে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কয়েকবার আলোটা কেঁপে উঠল। কয়েকজন হইচই শুরু করল। পানি থেকে উঠে আসার তাড়া দিল কয়েকজন। রাকিবের বাবা মুচকি হাসছেন।
বাবা তুমি উঠে আস। আরে রাখ, মণি মনে হয় পেয়েই যাব। কথাটা শেষ করেই রাকিবের বাবা পানিতে টুপ করে ডুব দিলেন। লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করল।
কয়েকজন ভয়ে দৌড়ে পালাল। রাকিব, বাবা বাবা বলে কয়েকবার ডাক দিল। শুনশান নীরবতা। কয়েক মুহ‚র্ত এভাবেই কাটল। ভুস করে পানির ওপর ভেসে উঠলেন রাকিবের বাবা। রাকিব ‘বাবা’ বলে চিৎকার দিল।
বাবা আলো বন্ধ হয়ে গেছে। তুমি কি কিছু পেলে?
মনে হয় নাগিনীর মণিটা। দোয়া কর।
সবাই চুপ করে আছে। নিঃশ্বাস বন্ধ সবার। রাকিবের বাবা পানি থেকে উঠে আসছে। রাকিব দৌড়ে গিয়ে বাবাকে তুলে আনে। লোকজন ততক্ষণে তাদের ঘিরে ফেলেছে। সবার চোখে মুখে জিজ্ঞাসা।
কি ব্যাপার, কিছু বলছেন না কেন? এক লোক জানতে চায়। মণিমুক্তার ব্যাপার, তাই চুপ থাকাই ভালো।
লোকজন নাছোড়াবান্দা।
রাকিবের বাবা জামার ভেতরে হাত ঢুকালেন। যখন হাত বের করে আনলেন তখন সবার চোখ ছানাবড়া।
বাবা এটা তো টর্চলাইট।
হ্যাঁ, টর্চলাইট। ওয়াটার প্রæফ টর্চলাইট মনে হয়। কেউ দুষ্টামি করে পুকুরে ফেলে রাখতে পারে। কিংবা হাত থেকে পড়ে যেতে পারে। জানা নেই। জ্বালানো ছিল, তাই পানির নিচ থেকে আলো আসছে। রাকিবের বাবার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
একখ আপনারা হাসলেন কি না জানাবেন...?

No comments:

Post a Comment