da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: ভয়াল প্রতিশোধ- Ghost Story
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Saturday, December 9, 2017

ভয়াল প্রতিশোধ- Ghost Story


        Ghost





ভয়াল প্রতিশোধ
##############
রাত ১২ টা। একটা লাশ এসেছে
মর্গে,,,একটা ২৮ বছরের তরুণীর
লাশ,,,পরিচিত পুলিশ ইন্সপেক্টর ফোন
দিয়ে বলল খুব তাড়াতাড়ি এসে
লাশটার পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট
করতে,,,পলিটিক্যাল একটা প্রবলেম
আছে,,,
আমি একজন ফরেনসিক স্পেশালিষ্ট,,,
আমার বাসায় আমি আর আমার স্ত্রী
থাকি,,আমার স্ত্রীর নাম নীলিমা।
দীর্ঘ ৮ বছর প্রেম করার পর অনেক
ঝামেলা, অনেক বাধা পার হয়ে
মাত্র ৬ মাস আগে আমাদের বিয়ে
হয়েছে,,,মেয়েটা আমাকে অনেক
ভালবাসে,,, যখন মাত্র পাশ করে বের
হয়েছি ডাক্তারি,, হাতে টাকা
পয়সা কিছুই ছিল না,,চাকরিও ছিল
না,,মামা কাকাও ছিল না যে
চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে,,
নীলিমার বাবা ওকে বিয়ে দিয়ে
দেবার অনেক চেষ্টা করেছিল,,ও
রাজি হয় নি,,আমার আশায় বসে
ছিল,,আমাকে তখনই বিয়ে করতে
চেয়েছিল,,কিন্তু ওকে অভাবের মুখ
দেখাতে রাজি হই নি,,,রাজরাণী
করে রাখতে চেয়েছি,,তাই ই
অপেক্ষা,,অবশেষে ফরেনসিক এ
ক্যারিয়ার গড়ে সচ্ছল
হলাম,,নীলিমাকে ঘরে
তুললাম,,,আমাদের ৮ বছরের প্রেমের
হ্যাপি এন্ডিং হল,,,
৬ মাস আগে প্রথম ওকে ঘরে তুলে
বলেছিলাম,আমার প্রতি তোমার
বিশ্বাস আর ভালবাসার মূল্য আমি
দিব,,এত বছর আমার জন্য অপেক্ষা
পুষিয়ে দিব,,,
ও শুধু একটু হেসে আমার হাতটা
ধরেছিল,,,আমার কাছে মনে
হয়েছিল,,স্বর্গের রূপ হয়ত পৃথিবীতেই
দেখা যায়।
আমাকে নীলিমা কাছছাড়া কখনওই
করতে চায় না,,ওর নাকি আমার জন্য
বড্ড ভয়,,ফরেনসিক ডাক্তারদের
উচুমহলের হুমকি ধামকির মধ্যে কাজ
করতে হয়,,আর ও জানে আমি কখনওই
কোন হুমকিতে মাথা নত করি না,,,
ওর এটাতেই ভয়,,একগুঁয়েমি করে কবে
না জানি কার কোপানলে পড়ি,,,
পাগলিটার আমার জন্য এত দুশ্চিন্তা
করার কথা ভেবে মর্গে যাওয়ার
পথে আনমনে একটু হাসলাম,,আজ ১২
টায় মর্গে আসার কথা শুনে
বাচ্চাদের মত বায়না করেছিল যেন
না যাই,,কান্নাকাটি
করেছিল,,,কিন্তু এটা তো আমার
চাকরি,,যেতে তো হবেই।
মর্গে চলে আসলাম,,ইন্সপেক্
টর
জাহিদ আমাকে তড়িঘড়ি করে তার
কাছে ডাকল,,আমি অবাক হলাম,,লাশ
নিয়ে সাধারণত কনস্টেবল
আসে,,ইন্সপেক্টর কেন আসল?
আমাকে আড়ালে ডেকে জাহিদ
বলল,, "ভাই,,মনে হচ্ছে রেইপ কেস,,,
ওইখানে মেয়েটার স্বামী বসে
আছে,, বলতেছে,,ও আর ওর বউ আজ
বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিল,,, ওর
বউকে কয়েকজন লোক তুলে নিয়ে
যায় ওর মাথায় বাড়ি দিয়ে,,, ওর যখন
জ্ঞান ফেরে ও দেখে ওর বউয়ের নগ্ন
ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে আছে পাশের
ঝোপে,,"
আমার খুবই খারাপ লাগল,,,কথাটা
শুনে,,,মন একদম দমে গেল,,, কিন্তু
তারপরও বললাম,, "আপনি যে বললেন
পলিটিকাল ব্যাপার? "
জাহিদ বলল,, "ছেলেটা যেসব মুখের
বর্ণনা দিচ্ছে,,যারা ওর বউকে তুলে
নিয়ে গেল,,তাদের লিডার এক
মন্ত্রীর ছেলে,,, ওই ছেলে আর ওর
গ্যাংয়ের এধরণের ঘটনা ঘটানোর
অনেক রেকর্ড আছে,,,, আপনার আগের
ডাক্তার জানত,,,তাই এসব কেসে
রিপোর্ট করত না ওদের নামে,,,
আপনি একটু বুঝে রিপোর্ট করেন,,এরা
ডেঞ্জারাস পাবলিক।"
রাগে পিত্তি জ্বলে গেল
আমার,,,বললাম,,যেটা ঘটেছে বলে
মনে করি,,সেই রিপোর্ট ই করব,,,,,
মর্গের দরজার দিক এগিয়ে গেলাম,,,
একটা খুব সুন্দর ছেলে দরজার কাছে
বসে আছে,,, মাথায় পট্টি বাধা,চুয়ে
চুয়ে এখনো রক্ত পড়ছে,,, চোখ দেখে
মনে হচ্ছে সব অশ্রু মনে হয় শেষ হয়ে
গেছে,,,আর পড়বে না,,,
আমার বুকের ভিতরটা হাহাকার
করে উঠল,,,ছেলেটা আমাকে দেখে
বলল,,"স্যার,,অনেক ব্যাথা ও এমনিই
পাইছে আজ,,আর দিয়েন না,,এবার
একটু ঘুমাক স্যার,,প্লিজ,,,"
আমি কি বলব বুঝছিলাম না,,ভিতরে
ঢুকলাম,,,,,
পরীর মত একটা মেয়ে শুয়ে আছে
ভিতরে,,, ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত পরী,,,
মেয়েটাকে দেখে আমার বুকের
ভিতরটা কেমন জানি করে
উঠল,,ডোমকে হাত দিতে দিলাম না
ওর গায়ে,,নিজের হাতে ওর পোস্ট
মর্টেম করলাম,,,
গণধর্ষণের পুরো আলামত পাওয়া
যাচ্ছে শরীরে,,,রিপোর্ট লিখলাম,,,
বীর্য পাওয়া গেল,, দেখেই মনে
হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন লোকের,,সেগুলো
কালেক্ট করলাম,,,তারপর যথাসাধ্য
কোমলভাবে মেয়েটার শরীরটা
সেলাই করে দিলাম।
লাশ ওর স্বামীর কাছে হস্তান্তর
হল,,,আমি আর থাকলাম না,,মর্গের
আশেপাশের অনেকটা জায়গা
নিয়ে প্রকৃতি যেন হাহাকার করছে
মেয়েটার স্বামীর চিৎকার করে
কান্না শুনে,,,,
বাসায় ফেরার পথে মাথাটা কেমন
জানি ভারী ভারী লাগল,,,
মেয়েটার সাথে আমার নীলিমার
এত্ত মিল,,,,
ভাবতে পারলাম না আর,,, মেয়েটার
জায়গায় নীলিমাকে কল্পনা
করাটাই অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক,,,
রাত ৩ টায় বাসায় ফিরলাম,,, দেখি
নীলিমা আমার চিন্তায় বসে
অপেক্ষা করছে,, গিয়েই ওকে বুকে
জড়িয়ে ধরলাম,,, ও অবাক হয়ে গেল,,,,
আমি নীলিমাকে আগলে রাখার
শপথ নিলাম,, মর্গের ওই বেডে
নীলিমা কখনওই যাবে না,,আমার
দেহে একফোঁটা রক্ত থাকতে,,,,,
৪/৫ দিন পর,,,, খবর পেলাম,,সেই
মেয়েটার স্বামী মন্ত্রীর ছেলে
আর তার বন্ধুদের নামে কেস করছে
কোর্টে,,,,এই ব্যাপারটা নিয়ে
হুলস্থূল বাধল সারা দেশে,,, জনতার
চাপে পুলিশ ওদের গ্রেফতার করতে
বাধ্য হল,,,,
আমার কাজ আবার পড়ল,,,আমি
প্রত্যেকের ডি এন এ সংগ্রহ করলাম,,,
আমার কালেক্ট করা বীর্যের ডি এন
এর সাথে মিলালাম,,প্রত্য
েকটা
মিলে গেল,,,
মনে মনে ভাবলাম,, তোদের ফাঁসি
হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র,,,,
ওইদিন সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে সেই
মেয়েটার স্বামী আসল,,,, আমি
বসতে বললাম,,,,বলে
দিলাম,,"দেখেন,,
কেসের ব্যাপার এ কিছু জিজ্ঞেস
করবেন না,,বলতে পারব না,,বে
আইনি,,,"
ছেলেটা বলল,, "স্যার,,আপনার মুখ
দেখেই বুঝা যায়,,আপনি সৎ,,আমি
জানি আমার নীলিমা সুবিচার
পাবে,,,"
আমি বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে গেলাম,,,
"নীলিমা!!!!"
ছেলেটা বলল,, "আমার বউয়ের
ডাকনাম নীলিমা,,,, "
আমি তাকিয়েই থাকলাম,,, আনমনে
ছেলেটা বলা শুরু করল,,, "জানেন
স্যার,, ৮ বছরের প্রেম,,,আমার কিছুই
ছিল না,,ওর বাবা ওকে বিয়ে
দিয়ে দেবার কত চেষ্টা
করেছিল,,ও আমার জন্য অপেক্ষা
করেছিল,,, আমাকে বলেছিল
প্রয়োজনে কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা
করবে,,,
ওর এই ভালবাসার মূল্য দিতে
চেয়েছিলাম,, ভেবেছিলাম রাণী
করে রাখব,,, একটা চাকরি
পেয়েছিলাম,, ৬ মাস আগে বিয়ে
হয়েছিল,,, আমার কপালে আসলে সুখ
নেই স্যার,,মেয়েটার এই ভাগ্য হবার
কথা ছিল না,,,ভাল মেয়েদের ভাগ্য
এমন কেন হয় স্যার?"
আমার গলা শুকিয়ে গেল,,এই ছেলে
আমার জীবনকাহিনী বলছে,,আমার
আর নীলিমার,,,, ও কিভাবে
জানে??? না না,,এত্ত মিল কিভাবে
সম্ভব,,,,,
আমি ছেলেটাকে বিদায়
জানিয়ে চলে আসলাম,,,, বাসায়
এসে দেখলাম,,নীলিমা আমার জন্য
আমার প্রিয় খাবার রান্না করছে,,,,
আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম,,, যে
মানসিক যন্ত্রণার মাঝে আছি,,একটু
যদি বলা যেত!
নাহ,,বলব না,,, আমার অনেক যন্ত্রণার
ভাগ ও নিয়েছে,,,আর দিব না,,এবার
ওর সুখের পালা,,, সব যন্ত্রনা শেষ,,,,
আমি জানলাম না,,মন্ত্রীর ছেলে ওই
রাতেই জামিনে বের হয়ে
গিয়েছে,,,
আমি ওদের বিরুদ্ধে প্রমাণ নিয়ে
রেডি ছিলাম,,, কোর্টে জমা দিব,,,
কিন্তু তার আগেই সেই মন্ত্রীর
ছেলে আমার সাথে দেখা করল,,,,,
কাল,,বিশাল দানবের মত
দেখতে,,মনে হল রূপকথার
রাক্ষস,,যারা রাজপুত্রের কাছ
থেকে রাজকন্যাজে কেড়ে
নেয়,,,লোকটাকে দেখেই মাথায়
রক্ত উঠে গেল,,,,
আমার অনুমতি না নিয়েই বসে পড়ে
আমার টেবিলের উপর পা তুলে দিল
লোকটা,,, বিরক্ত হয়ে দেখতে
লাগলাম,,,
আমাকে বলল,, "তুমি নাকি ওই মেয়ের
রিপোর্ট করছ?"
আমিও বললাম,,"তোমাকে উত্তর
দিতে বাধ্য নই আমি"
হয়ত কারো মুখ থেকে তুমি ডাক শুনে
না সচরাচর,, চোখ বড়বড় করে তাকাল
আমার দিকে,,,,
"তোর রিপোর্টে কি আসছে?"
আমি বললাম,, "তোরে ঝুলানোর মত
যথেষ্ট,, "
"তুই আমার সাথে ফাজলামি
করতেছিস?"
আমি বললাম,,, "ফাজলামি না,,মানুষ
হয়ে কুত্তার সাথে কথা বলতে ঘৃণা
লাগছে,,বের হ আমার চেম্বার
থেকে,,,"
লোকটা বলল,, "রিপোর্টে লেখ,,
মেয়েটাকে ওর স্বামী কুপিয়ে
মেরেছে,,, মেয়ের শরীরে শুধু ওর
স্বামীর ডি এন এ ই আছে,,,"
বললাম,, "তোর বাপের সম্পত্তি
নাকি এই রিপোর্ট? "
ও বলল,, "এই দেশই আমার বাপের,, তোর
মত দুই টাকার ডাক্তাররে তো
গায়েব করে দিতেই পারি,,কিন্তু
পাব্লিক তোরে চেনে,,ঝামেলা
হবে,,,তাই তোরে কিছু টাকা
দিব,,নিয়ে যা লিখতে বললাম
রিপোর্টে,,তা ই লিখবি,,"
বললাম,,"নিজে বের হবি চেম্বার
থেকে, নাকি পাছায় লাথি মেরে
বের করব?"
ও বলল,, "তোর বউটা শুনলাম অনেক
সুন্দর,,,,,,যা বললাম তা না করলে,,তোর
ডাবল রিপোর্ট করা লাগবে,,২য় টা
তোর বউয়ের,,,,"
বুক শুকিয়ে গেল আমার,,, গলা থেকে
কথা বের হল না,,,
লোকটা বলল,,, "কি? লাইনে আসবি?
আসলে ভাল,,নইলে একবারে তোর
বউয়ের পোস্ট মর্টেমও করে যা"
লোকটা চলে গেল,,আমার বুকে
রেখে গেল সীমাহীন ভয়,,,,
না,,নীলিমার কিছু হবে না,,আমি
হতে দিব না,,,এর বদলে যা করতে হয়
করব,,,,
রিপোর্ট চেঞ্জ হয়ে গেল,,নিরপরাধ
ছেলেটা ওর বউ হত্যার অভিযোগে
গ্রেফতার হল,,,
ছেলেটা ফাঁসির রায় হল,,এমন একটা
অপরাধে যা ও করেনি,,আর কাজটা
করলাম আমি,,আমিই ওকে মেরে
ফেললাম,,,
ফাঁসিতে ঝোলার আগে ছেলেটা
চিৎকার করে বলেছিল,,, "ইয়া
আল্লাহ,, আমাকে ন্যায়বিচার
থেকে যে বঞ্চিত করল,,, আমাকে এত
বড় কলঙ্ক দিয়ে যে খুন করল,,তার জীবন
থেকে তুমি সব কেড়ে নাও,,,, আমার
জীবন থেকে আমার ভালবাসা চলে
গেছে,,সেও যেন তার ভালবাসা
হারায়,,,,"
ছেলেটা ফাঁসিতে ঝুলে ছটফট করার
সাথে সাথে সারা আকাশ মেঘে
ঢেকে গেল,,ঝড় শুরু হল,,,, বিদ্যুৎ
চমকাল,,,কোথায় যেন সজোরে এক
বজ্রপাত পড়ল,,,, ছেলেটার অভিশাপ
মনে হয় কবুল হল,,, আমার পাপের
শাস্তির দোয়া যেন কবুল হল,,আমার
সব হারানোর সময় চলে আসল,,,,
নীলিমা আমার পাশে ঘুম থেকে
চিৎকার করে উঠল,, আমিও উঠে
গেলাম,, ওকে জড়িয়ে ধরলাম,, ও
কাঁপছে,,, ও আমাকে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরল,,,,
আমাকে বলল,, "আমাকে সত্যি করে
বল তুমি কি করছ,,, স্বপ্নে দেখলাম কে
যেন আমাকে বলছে তোমার পাপের
শাস্তি আসছে,,তোমাকে শেষ করে
দিবে,,,,"
এ বলে ফোঁপাতে লাগল,,আমি আর
পারলাম না,, ঝরঝর করে কেঁদে
দিলাম,,ওকে বলে দিলাম সব,,,
সব শুনে ও আমার কাছ থেকে দূরে
সরে গেল,, বলল,, "ছিঃ একটা
নিরাপরাধ ছেলেকে তুমি মেরে
ফেললা,,,,"
আমার দিকে ৮ বছরের মধ্যে প্রথমবার
ও তীব্র ঘৃণা নিয়ে তাকাল,,আমি
উঠে বারান্দায় চলে
গেলাম,,সারারাত জেগে
থাকলাম,,, বিছানায় ফোঁপানির
আওয়াজ শুনে বুঝলাম,,আমি একাই
জেগে ছিলাম না,,,,
পরেরদিন ও আমার সাথে কোন কথা
বলল না,,তার পরেরদিনও না,,তার
পরেরদিন ও না,,,,আমার পাপের
শাস্তি আসছে,,,কথাটা মিথ্যা না।
আমি মন্ত্রীর ছেলের কৃতকর্মের
প্রমাণ রেখেছি,,,আমি জানি
সেটা,,মন্ত্রীর ছেলেও জানে,,ওর
ভয়ে কাজটা করলেও আমার হাতেই
ওর ফাঁসির দড়ি ঝুলছে,,আমি চাইলে
ওকে ফাঁসি দিতে পারি,,,আমার
দুনিয়াতে থাকা ওর জন্য খুবই
বিপদজনক,,,
আমি পরেরদিন সকালে
ডিপার্টমেন্ট এ যাচ্ছিলাম,,,
কিসের জন্য যেন নীলিমাও সাথে
এল,,আমার সাথে ও কথা বলে না
আর,,এক বিছানায়ও শোয় না,,,
কিসের জন্য সাথে এল
জানিনা,,নিয়ে আসলাম,,,
আমি দেখলাম এক বুড়োলোক রাস্তা
পার হতে পারছে না,,নীলিমাকে
ফুটপাতে রেখে,,বুড়োটাকে
রাস্তা পার করে দিলাম,,যখন
নীলিমার দিকে ফিরে আসছি,
একটা ট্রাক আমার দিকে
আসছিল,,আমি দেখিনি, নীলিমা
দেখল,,, দৌড়ে এসে আমাকে
ট্রাকের সামনে থেকে ফুটপাতের
দিক সরিয়ে দিল,,হঠাৎ করে সরে
যাওয়ায় ট্রাকটা আমাকে চাপা
দিতে আমার দিকে মুখ ঘুরিয়ে
নিল,,কিন্তু টাল সামলাতে না
পেরে কাত হয়ে গেল,,কাত হয়ে
রাস্তা দিয়ে সামনের দিক ঘষে
ঘষে যেতে লাগল,,সামনে থেকে
একটা রাসায়নিক গবেষণাগারের
মালামাল নিয়ে আরেকটা ট্রাক
আসছিল,,,,প্রথম ট্রাকটা ঘষতে ঘষতে
গিয়ে সেটাতে ধাক্কা
দিল,,সেটায় আগুন ধরে গেল,,আর
রাসায়নিক পদার্থগুলো আশেপাশে
ছিটকে গেল,,, নীলিমা সেটা হয়ত
দেখেছিল,, ও শক্ত করে আমাকে
জড়িয়ে ধরল,,সেই পদার্থগুলোর কিছু
অংশ ওর গায়ে এসে পড়ল,,,
নীলিমা চিৎকার দিয়ে গড়াগড়ি
দিতে লাগল রাস্তায়,,,আমি ওকে
কোলে করে হাসপাতালে নিয়ে
এলাম,,,
রাসায়নিক পদার্থটা এক ধরণের
অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ
করে,,সেটা চামড়ার কোন ক্ষতি
করে না,,কিন্তু চামড়া ভেদ করে
রক্তে মিশতে পারে,,নীলিমার
শরীরের চামড়ায় ওটা কোন ক্ষতি
করে নি,,, কিন্তু ভয়াবহ একটা ক্ষতি
করে দিল ওর ভিতরে,,,, এই
কেমিক্যাল টার সাথে বৃষ্টির
পানির মিল আছে,,যদিও পানি
বিপদজনক না,,কিন্তু কেমিক্যাল টা
ওর শরীরে আগে থেকেই
থাকায়,যদি বৃষ্টির পানি
ঢোকে,,তাহলে শরীরের মধ্যে
ভয়াবহ রকমের টাইপ ওয়ান
হাইপারসেন্সিটিভিটি বিক্রিয়া
শুরু হবে,,, ফলাফল মৃত্যু,,,,
আমি নীলিমাকে রাণী করে
রাখতে চেয়েছিলাম,,কিন্তু ওর সব
সুখ আমি কেড়ে নিলাম,,, আমার পাপ
ওকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছিল,, এখন বৃষ্টি
পড়লে ও আর আমাকে নিয়ে তাতে
ভেজার স্বপ্ন দেখতে পারবে না,,,,
বৃষ্টির পানিতে খুবই পাতলা
নাইট্রিক এসিড থাকে,,ওর শরীরে
ঢোকা কেমিক্যালটা নাইট্রিক
এসিডের একটা জাতক,,, যেহেতু
কেমিক্যালটা ওর শরীরের শ্বেত
কণিকাকে জানিয়ে দিয়েছে
এটা ওর শত্রু,,,আর বৃষ্টির পানির
নাইট্রিক এসিডকেও সেটা শত্রুই
ভাবছে,,, এজন্যই বৃষ্টির পানি শরীরে
ঢুকলে ওর নিজের রক্তই ওকে মেরে
ফেলবে।
এখন যদি অন্য পানিতেও এসিডটা
থাকে?? কি হবে তাহলে? না,,আমি
রিস্ক নিলাম না,,আমি ওর
ব্যাবহারের জন্য ডিস্টিল ওয়াটার
কিনে আনতাম,,, নিজ হাতে ওর ত্বক
ধুইয়ে দিত্ম,, কোন কাজ ওকে করতে
দিতাম না,,, চোখের আড়াল হতে
দিতাম না,,সাথে করে চেম্বারে
নিয়ে যেতাম,,ডিপার্টমেন্ট এ
নিয়ে যেতাম,,আমি কাজ করতাম,, ও
বসে থাকত,,আমাকে দেখত,,,
আমাকে ও মাফ করে
দিয়েছিল,,,আমাকে আবার
ভালবাসতে লাগল,,হয়ত আগের
চেয়েও বেশি,,ট্রাকটা আমাকে
চাপা দিতে আসায় ও
বুঝেছিল,,,কতটা বিপদে আমি
আছি,,কিসের জন্য পাপটা করতে
বাধ্য হয়েছি,,,,
ওর প্রতি আমার ভালবাসা অসীম
হয়ে গেল,,, কয়টা বউ তার বরকে চলন্ত
ট্রাকের হাত থেকে বাচায়,,কয়জনই
বা বিষাক্ত কেমিক্যাল নিজের
শরীরে নেয়,,বরকে আগলে ধরে,,,,,,
আই লাভ ইউ,নীলিমা,,,আই লাভ
ইউ,পরী,,,
প্রতিটা গল্পে একটা ভিলেন
থাকে,,,যার শক্তি অনেক বেশি
থাকে,,,, আচ্ছা,,কেন নায়কের শক্তি
ভিলেনের চেয়ে বেশি হয় না?
তাহলে দুনিয়ায় হয়ত,,কোন ছেলে
এতিম হত না,,কোন স্ত্রী বিধবা হত
না,,,বা,,,কোন স্বামী বিপত্নীক হত
না,,,,
একদিন নীলিমাকে সেই মন্ত্রীর
ছেলে দেখে ফেলল,,, কিভাবে
জানি না,,, কিন্তু দেখল,,,,
ওইরাতে চেম্বার থেকে দুইজন
একসাথে বাড়ি ফিরছিলাম,,, আজ
নীলিমা আমার প্রিয় খাবার
রান্না করবে,,, যা যা লাগবে
রান্না করতে,,ও আগ্রহ নিয়ে
কিনছে,,,আমি আকাশের দিক
তাকিয়ে আছি,,,মেঘ হচ্ছে
আকাশে,,বৃষ্টি নামবে,,,, যার
একফোঁটাও আমি নীলিমার গায়ে
লাগতে দেব না,,কখনো
না,,,নীলিমার কেনাকাটা হয়ে
গেলে,,ওকে ধরে নিয়ে হাটতে
লাগলাম,,, মেঘের গর্জন হচ্ছে,,,,
একটুপর আকাশ থেকে বিষ নামবে,,,,
বৃষ্টি না,,বিষ,,,,
আকাশ থেকেই ওই রাতে বিষ নামল
না,,, জমিন থেকেও আসল,,, আমাদের
যাওয়ার পথে ৫ জনকে দাঁড়িয়ে
থাকতে দেখলাম,,,,,
মন্ত্রীর ছেলে এগিয়ে
আসল,,নীলিমাকে দেখে ঠোট
চাটল,,নীলিমা ভয়ে আমার পিছনে
পালাল,,,
মন্ত্রীর ছেলে বলল,,, "তুই বাড়ি
যা,,আজ রাতটা অনেল রোমান্টিক,,
তোর বউকে আমরা কালকে
পাঠিয়ে দিব তোর কাছে,,,,"
এই বলেই ওকে নিয়ে টানাটানি শুরু
করল ওরা,,,আমি ধরে রাখলাম
প্রাণের শক্তি দিয়ে,,,নীলিমাকে
,, আমার মানায় কে যেন একটা
বাড়ি দিল,,,
কিন্তু জ্ঞান হারালাম না,,,ভয়ে
আড়ষ্ট হয়ে গেলাম,,, বৃষ্টি শুরু হয়ে
গেছে,,,,
বৃষ্টির ফোটা নীলিমার গায়ে
এসে লাগল,,,
নীলিমার আর্তচিৎকারে আকাশ
বাতাস কাঁপতে লাগল,,,, ওই লোক
গুলো ভয়ে পিছিয়ে গেল,,, মরণ
যন্ত্রণায় নীলিমা কাঁদতে
লাগল,,গড়াতে লাগল
মাটিতে,,,আমার চোখের সামনে
নীলিমার চলে গেল,,, যাওয়ার
আগে আমার দিকে কষ্টের এক
চাউনি দিয়ে গেল,,আমাকে ছেড়ে
যাবার কষ্ট,,,,
বুনো চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে
উঠলাম,,, গিয়ে মন্ত্রীর ছেলের ঘাড়
ধরে মাটিতে আছড়ে ফেললাম,,, ওর
বন্ধুরা আমাকে সরাতে চাইল,,,যে
কাছে আসল তার ঘাড়টা ভেঙে
দিলাম,,, ভয়ে বাকিরা চলে গেল,,,,
মন্ত্রীর ছেলে আর আমি,,,,, বৃষ্টির
ফোটা বড়বড় পড়ছে,,,আমার চেহারা
তো সহজ সরল,,,আমাকে দেখে ভয়
পাচ্ছে কেন ও???
আমাকে বলল,, "দেখ,,আমাকে ছেড়ে
দে,,তুই জানিস না তোর কি হাল করব
আমি,,,,"
আমি ওর বুকেরর উপর হাটু চেপে ঘুষি
মারতে লাগলাম মুখে,,,,,
"তুই জানিস না আমি কে,,,এটা একটা
গল্প,,,আর আমি এর লেখক,,,,"
ঘুষি মারতে মারতে মুখ আর নাক
ভেংগে দিলাম,,, গলার মধ্যে
ভাঙা নাক ছিড়ে ঢুকিয়ে
দিলাম,,,,,
তুই শেষ,,,,,
দুইটা কুকুরের লাশের কাছ থেকে
আমার নীলিমাকে আমি সরিয়ে
আনলাম,,,,,
এক বছর পর,,,,
টিভিতে রিপোর্ট হচ্ছে,,,, "গত একবছর
ধরে চলে আসা বিকট খুনগুলোর
সংখ্যা আজ ১০০ তে দাড়িয়েছে,,,
খুনি ভিক্টিমের নাক ভেঙে
ছুটিয়ে গলার মধ্যে ঢুকিয়ে মেরে
ফেলে,,,, গতবছর এক গণধর্ষণ মামলার
আসামি এক মন্ত্রীর ছেলে খুনের
মাধ্যমে এটা শুরু হয়,, ওই কেসে যদিও
মন্ত্রীর ছেলে মুক্তি পেয়েছিল,,,
এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের
রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ওই
মেয়ের স্বামীর ফাঁসি হয়েছিল,,,
এঘটনার কয়েকমাস পরই মন্ত্রীর
ছেলে খুন হয়,,,তারপর তার বন্ধুরা,,, ওই
কেসের পুলিশ ইন্সপেক্টর, মন্ত্রী
নিজে,,,,এর পর আরো অনেক ছেলে
সেই ভয়ংকর খুনির শিকার হচ্ছে,,,
কেউ কেউ বলছে খুনি মেয়েদের
উত্যক্তকারী ছেলেদের টার্গেট
করে,,, আর রাতে একা পেলে মেরে
ফেলে,,, খুনির ভয়ে,,মেয়েদের
যাত্রাপথে এখন আর কোন ছেলেকে
দাঁড়াতে দেখা যায় না,,,এই এক
বছরে দেশে ধর্ষণের কোন ঘটনা আর
শোনা যায়নি,,,,"
আমি কবরস্থানে দাঁড়িয়ে
আছি,,বৃষ্টি পড়ছে,,, আমি ছাতা
হাতে ওর কবরে সামনে,,ছাতাটা ওর
কবরের উপরে রেখে দাঁড়িয়ে
ভিজছি,,,,
বৃষ্টির পানি নীলিমার গায়ে
লাগাতে দেওয়া যাবে না,,, ওর
যন্ত্রণা হয় খুব,,,,,

No comments:

Post a Comment