da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla: কর্মফল: [একটি ভৌতিক গল্প] https://banglavutergolpo.com/ -১ম পর্ব
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Sunday, December 10, 2017

কর্মফল: [একটি ভৌতিক গল্প] https://banglavutergolpo.com/ -১ম পর্ব

-:কর্মফল:------
[একটি ভৌতিক গল্প]Tarvisio, Italy.  December 7 2016. The Krampus masks.
:
-----১ম পর্ব-----
:
লেখা: অভিশপ্ত মানব(শাওন)
:
:
-- আমার জন্য স্বর্নের রিং এনেছো??(সীমা)
-- সরি বাবু,আসলে আমি টাকাটা ম্যানেজ করতে পারিনি।(শাওন)
-- ম্যানেজ করতে পারোনি! নাকি আমাকে রিং দেয়ার ইচ্ছা নাই।
-- নাহ বাবু বিশ্বাস করো।আমি অনেক চেষ্টা করেছি ম্যানেজ করতে। কিন্তু কে দিবে টাকা।এখানে আমার তেমন পরিচিত কেউই নাই। তাছাড়া গতমাসে নয় হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ আর ফোন ছিনতাই হওয়াতে বাবার কাছ থেকে বাড়তি পনের হাজার টাকা নিয়েছিলাম।
সেই ধাক্কাই এখনো আব্বু সামলে উঠতে পারেনি।এজন্য এইমাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।
তার উপর আবার যদি টাকা চাই আব্বু সামলাতে পারবেনা।
-- তো আমি কি করবো??
-- বাবু একটু অপেক্ষা করো আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করবো সামনের মাসে তোমাকে এককটা স্বর্নের রিং কিনে দিতে।
-- আর দিয়েছো।
হত মাসেও একই কথা বলেছ।কিন্তু দাওনি।
এইমাসে দিতেই হবে।কিভাবে দিবে জানি না।
-- কিন্তু......!
-- কোনঁ কিন্তু না। রিয়ার বয়ফ্রেন্ড ওকে আইফোন গিফ্ট করছে।আর তুমি সাধারন একটা রিং দিতে পারবা না??
-- ওর বয়ফ্রেন্ড তো কোটিপতির ছেলে। আর আমি.............
-- ওসব বলে লাভ নেই।কালকে যেভাবেই হোক রিং চাই।
যদি রিং না দাও কোনোদিনো আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবা না।
বলেই সীমা হনহনিয়ে হেটে চলে গেল। শাওন অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে।সীমার পথ চলার দিকে।
:
:
শাওন বাসায় এসে বিছানায় শুয়ে শুয়ে সীমার আবদারের কথা চিন্তা করতেছে।
কত্তটা বায়না বাজ মেয়ে।
মাস দেড়েক আগে আগে একটা স্মার্ট ফোন কিনে দিল।এখন আবার রিং কিনে দিতে হবে। এতটাকা কোথায় পাবে ও।
তাছাড়া ওকে ওর চাহিদা মত গিফট না দিলে একটুও কথা বলে না সীমা।
কিন্তু শাওন ওর সাথে কথা না বলে থাকতে পারেনা।
ভীষন ভালবাসে সীমাকে। এজন্য শত কষ্ট হলেও সীমার অস্বাভাবিক আবদার গুলো পূরন করতেছে।
শাওন ভাবতেছে কিভাবে সীমাকে একটা রিং দেয়া যায়।
অবশেষে ভেবে ফেললো সেমিস্টার ফি দিয়ে সীমাকে একটা রিং কিনে দিবে।
বিশ হাজার টাকা সেমিস্টার ফি থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভার্সিটিতে জমা দিয়ে বাকি পনের হাজার টাকা দিয়ে একটা সিম্পল রিং কিনে সীমার কাছে গেল।
শাওনের হাতে রিং য়ের বক্স দেখে সীমার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
-- কি গো এনেছো??(সীমা)
-- হ্যা এনেছি।(মাথা নিচু করে)
-- কই দেখি..!!
শাওন রিংয়ের বক্সটা সীমার দিকে এগিয়ে দিল।
বক্সটা খুলে সীমার মুখটা কালো হয়ে গেল।
-- একি এত সিম্পল একটা রিং।দেখেতো মনে হচ্ছে চৌদ্দ পনের হাজারের উপর এক কানাকড়িও হবে না।
-- আসলে যেটুকু পেরেছি সেটুকু দিয়ে কিনেছি।
-- হুহ এত কমদামী রিং আমি হাতে দিলে মান সম্মান একটুও থাকবে না।
কোন কপাল নিয়া যে তোমার সাথে প্রেম করছিলাম।
সীমা এরকম অনেক কড়া কথা শাওনকে টেপরেকর্ডারের মত বলেই গেল।
শেষমেষ রাগ দেখিয়ে চলেও গেল।
কিন্তু সাথে রিংটাও নিয়ে গেল।
শাওন মন খারাপ করে পার্কের বেন্চেই বসে আছে।
এত কষ্ট করেও শাওন সীমার মুখে হাসি ফুটাতে পারলো না।নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে।
এভাবে নানা কথা ভাবতে ভাবতে একসময় সন্ধ্যা নেমে আসলো।
ধীরে ধীরে গভীর রাত হয়ে গেল। কিন্তু শাওনের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।ও শুধু আনমনে সীমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মানে খুজতেছে।
হঠাৎ পাশে কে যেন এসে বসলো।
সেদিকে খেয়াল নেই শাওনের।
পাশে বসা লোকটাই নিরবতা ভাঙ্গলো।
-- কি ব্যাপার ভাই, মন খারাপ নাকি??(আগন্তুক)
--শাওন নিশ্চুপ
-- এইযে ব্রো কথা বলেন না কেন!!??
-- হু
-- আরে কি হলো??
-- উ হ্যা হ্যা জ্বি বলুন।(শাওন)
-- মন খারাপ কেন??
-- না কিছুনা।
-- কিছুতো হয়েছেই।বলুন।
-- তারআগে বলুন আপনি কে??
-- হাহাহা।
-- হাসছেন কেন??
-- নাহ এমনি।
-- তাহলে বলুন!!(শাওন)
-- আমি কিশোর, কাছেই বাসা।আপনাকে একা বসে থাকতে দেখে এতটু কথা বলতে আসলাম।
-- ওহহহহ।
-- হুম।যা বলছিলাম মন খারাপ কেন??(কিশোর)
শাওন সবকিছু কিশোরকে খুলে বললো।
সবশেষে শাওন বললো....
-- জানেন ভাই ওর জন্য আমি সেমিস্টার ফি মিস করেছি।তারপর ওকে গিফট দিয়েছি।তারপরও ওকে খুশি করতে পারলাম না।(শাওন)
-- কেন এত রিস্ক নিলেন??
-- ভালবাসি যে।
-- ভালবাসেন তাও ওর মত একটা লোভী মেয়েকে।ছি....(কিশোর)
-- দেখুন ওর নামে কোন উল্টাপাল্টা কথা বলবেন না।(শাওন)
-- আচ্ছা, তবে শুনুন,আপনাকে একটা এটিএম কার্ড দিচ্ছি।এটা নিয়ে আপনি যেকোনো বুথ থেকে পনের হাজার টাকা তুলে ভার্সিটির বাকি ফি টা জমা দিয়ে আসুন। তারপর কালকে আমাকে আমার কার্ডটা ফিরিয়ে দিবেন।(কিশোর)
-- কিন্তু আপনি কেন আমাকে টাকা দিবেন??
-- এত প্রশ্ন নয়।যা বলেছি।তাই করবেন।আমি আসি।
কালকে এখানে দেখা করবেন।ঠিক রাত বারোটায়।
বলেই লোকটা কেমন যেন অদ্ভুদ একটা হাসি দিল।
তারপর ধীরেধীরে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে গেল।
হঠাৎকিশোর খেয়াল করলো লোকটা পাশের লেক পাড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু ওদিকে কোথায় যাচ্ছে সে।ওদিকে তো কোনো পথ নেই।শুধুই জলাশয়ের জল।
তাহলে...!??
শাওন চেচিয়ে বললো,"ওদিকে কোথায় যাচ্ছেন? ওদিকে তো শুধু পানি।"
কিন্তু খেয়াল করলো ওখানে এখন কেউ নেই।
শুধু নিস্তব্ধ অন্ধকার।
শাওন দৌড়ে গেল।
গিয়ে অনেক খুজলো।আশেপাশে কোনো জায়গা বাদ রাখলো না।কিন্তু কিশোরকে খুজে পেল না।
শাওন মনে মনে অনেকটা ভয় পেয়েছিল।
তাই তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলো।
পরদিন শাওন এটিএম বুথ থেকে পনের হাজার টাকা তুলে ভার্সিটিতে জমা দিল।
তারপর রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা করলো।
শাওনের বাসা থেকে পার্কের দুরত্ব বিশ মিনিটের পথ।
কিন্তু শাওনের একদমই যেতে ইচ্ছে করতেছিল না।
কালকের রাতের ঘটনাটা বেশ প্রভাব ফেলেছে ওর মনে।
তবুও অজানা এক শক্তি ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
রাত ১১:৫৯ মিনিট
শাওন আশেপাশে ভালো করে তাকাচ্ছে।কারো কোনো খোজ নেই।অথচ লোকটা ওকে ঠিক বারোটায় থাকতে বলেছিল।
হঠাৎ শাওনের ঘড়িতে বারোটা বাজার একটা সংকেত দিল।
সাথে সাথে কে যেন বলে উঠলো।
-- কি ব্যাপার?? কেমন আছ??
শাওন তাকিয়ে দেখে গতকালকের সেই লোকটা দাড়িয়ে আছে।
কিন্তু কিভাবে সম্ভব।এইমাত্র আশেপাশে তাকালো কিন্তু কাউকে খুজে পায়নি।
অথচ মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় সে কিভাবে আসলো।
এখানে আসতে তো পার্কের যেকোন গেট থেকে দুই মিনিট লাগে।
আর মোটামুটি সব জায়গায়ই ল্যাম্পপোস্টে টাংস্টেনের বাল্ব জ্বলছে।আসলে তো চোখে পরার কথা।
কিন্তু উনি কিভাবে আসলেন??
কেমন যেন বিষয়টা ধীরে ধীরে রহস্যজনক হয়ে উঠতেছে।
-- কি ব্যাপার চুপ করে আছেন কেন??(কিশোর)
-- না মানে আপনি কখন এলেন??(শাওন)
-- এইমাত্র এলাম
-- কিন্তু কিভাবে এলেন।আমিতো আশেপাশে কোথাও আপনাকে দেখতে পাইনি।
হঠাৎ লোকটা(কিশোর) গম্ভীর হয়ে গেল।
-- জানতে পারবেন।আগে বলুন টাকা জমা দিয়েছেন??
-- হুম দিয়েছি।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
-- কোনো প্রয়োজন নেই।এই উপকারের বিনিময়ে আমি একটা জিনিস চাইবো সেটা আপনাকে দিতেই হবে।
-- কি জিনিস বলুন??
-- ঠিক জিনিস না।এতটা কথা বলবো।আর আপনাকে সেটা শুনতে হবে।
-- আচ্ছা বলুন(কিছুটা ভয় পেয়ে)
-- ওকে ছেড়ে দে...!!
-- কাকে?(অবাক হয়ে)
-- সীমাকে।
-- সেকি কেন??
-- আমি বলছি এজন্য।বলেছি ওকে ছেড়ে দিতে তুই ওকে ছেড়ে দিবি।ভুলে যাবি মন থেকে।
-- না আমি পারবো না।
-- তোকে পারতেই হবে।
-- তোর ভালোর জন্যই বলছি।ওকে ভুলে যা।নইলে তুই কিন্তু অনেক বিপদে পরবি।
-- দরকার নেই কোনো ভালর।আমি ওকে ভুলতে পারবো না।
-- বলেছিনা তুই ভুলে যাবি। তোকে ভুলতেই হবে।আমি চাইনা আমার মত তুইও ওরমত একটা লোভী শয়তানের হাতে খুন হস।
শাওন লোকটার(কিশোর) কথা শুনে ভয়,আতংক এবং অবাক চোখে বড় বড় করে লোকটার দিকে তাকালো....
তাকিয়ে দেখে একজোড়া গাঢ় লাল রংয়ের রক্ত চক্ষু ওর দিকে তাকিয়ে আছে।অন্ধকারে বেশ উজ্জ্বলভাবেই জ্বলতেছে।
ভয়ংকর এক রুপ
যেটা কোনো মানুষের হতে পারেনা............
বাকিটা পরবর্তী পর্বে দিবো ইনশাল্লাহ.......
বি.দ্র: মোবাইল দিয়ে লিখি।তাড়াতাড়ি টাইপের কারনে ভুল হতে পারে।ভুলগুলো ক্ষমার চোখে দেখবেন।ধন্যবাদ

No comments:

Post a Comment