da4ba7d1b5688305010f9df38ec6fbfe045d25e0 Most Terrible horror ghost stories in bangla
name="propeller" content="2ed678d440884c082cf36a57cdf105f7"

Monday, December 11, 2017

স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন (অজানা এক বাংলা ভুতের গল্প) -www.banglagolpo.ml


স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন

----------------
(পর্ব-২৪)
------------
এসাইনমেন্টে থাকলে সাইফের চিরকেলে অভ্যেস-
রুম থেকে বেরোবার আগে দরজার ফাঁকে একটা চুল
গুঁজে রেখে যায়। এতদিন চুলটা জায়গামত পেলেও
আজ সেটাকে যথাস্থানে দেখা যাচ্ছে না। চুলটা
এমনভাবে সেট করা ছিল দরজা না খুললে পড়ে
যাবার উপায় নেই। সাইফ করিডরের দু’পাশটা চকিতে
দেখে নিল; দেখা যাচ্ছে না কাউকে। ডেজার্ট ঈগল
সাথে নিয়ে বেরোয়নি ‘নাইল’-এ যাবে বলে।
সতর্কতার সাথে দরজার নবে হাত রাখল। বড় করে দম
এক ঝটকায় দরজা খুলেই শরীরটা গলিয়ে দিল
ভেতরে। কাভার নিল কাবার্ডের আড়ালে। কোনো
অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে না। উঠে দাঁড়িয়ে
গোটা রুমে চোখ বোলালো। আস্তে আস্তে সার্চ শুরু
করল। পুরো রুমে সার্চ করেও কোনো অসামঞ্জস্য
ধরা পড়ল না, কিছু খোয়াও যায়নি। তবে কেন
এসেছিল অবাঞ্চিত অতিথী? একটাই উদ্দেশ্য
থাকতে পারে... আইডিয়াটা মাথায় আসতেই আবার
সার্চ শুরু করল। অবশেষে ইন্টারকমের রিসিভার
খুলতেই খোঁজ পাওয়া গেল ওটার। ক্ষুদে
মাইক্রোফোনটা দেখেই ক্রুর হাসি ফুটে উঠল
সাইফের ঠোটের কোণে। মাইক্রোফোনটা
ইন্টারকমের পাশে রেখেই সুমাইয়াকে ডাকতে গেল
ওর রুমে।
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সুমাইয়াকে নিয়ে ফিরে এল
সাইফ। মুখোমুখি বসল সোফাতে। মুখ খুলল সাইফ।
‘ট্রেজার যেহেতু পেয়ে গেছি আপনাদের আর কষ্ট
দেব না। আপনারা কাল বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন।
আমি রাতে ট্রেজার নিয়ে রওনা হব।’
সুমাইয়া কিছু বলত যাচ্ছিল সাইফ কথা ঘুরিয়ে
ফেলল। আরো টুকটাক দু একট কথা বলে মেয়েটাকে
রুমে ফিরিয়ে দিয়ে এল।
টোপ ফেলা হয়ে গেছে, এবার শিকারের অপেক্ষা!
***
সেদিন দুপুরে। অডিও ক্লিপটা মনোযোগ দিয়ে শুনল
শাইলক। পাশেই বসে আছে ইউরি কোলম্যান, দরজার
কাছে দেহরক্ষীর ভঙ্গিমায় বুকে হাত বেঁধে
দাঁড়িয়ে আছে মোবারক। সেদিকে একবার তাকিয়ে
তাচ্ছিল্য ভরে হেসেছে শাইলক।
‘ট্রেজার পেয়ে গেছে ওরা।’ যেন খবর দিল
শাইলককে ইউরি।
‘হু্ম, এবং ট্রেজার বের করে নিয়ে যাবার প্ল্যানও
করে ফেলেছে।’
‘কীভাবে, বুঝতে পারছো কিছু?’
‘অবশ্যই সমূদ্রপথে। এয়ারপোর্টে ট্রেজার নিয়ে
যাবার বোকামি করবে না সাইফ। হোটেলে
আমাদের এজেন্টকে সতর্ক করে দিন, সাইফের
প্রতিটা মুভমেন্টের খবর আমার চাই। বিশেষ করে
চেক আউট করামাত্রই যেন আমি জানতে পারি। আর
কয়েকজন দক্ষ লোককে স্ট্যান্ডবাই রাখুন। রাস্তার
গুন্ডাপান্ডা না হলেই ভাল!’
খোঁচাটা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোবারকের ভালই
লাগল। ইউরির মুখটাও মুহূর্তের জন্য কালো হয়ে গেল।
কিন্তু শাইলকের উপর দিয়ে কথা বলার সাহস তার
নেই। মোসাদের এই দুর্দান্ত এজেন্ট কাউকে গোণায়
ধরে না। এমনকি মোসাদ চিফের রুমেও যখন তখন ঢুকে
পড়ে। বিশেষ করে সদ্যই যে এসাইনমেন্ট শেষ করে
এল, এরপর থেকে তার প্রতি সবার সমীহ আরো কয়েক
কাটি বেড়েছে। আইজ্যাক কোহেন কিলিং মিশনটা
ছিল এক কথায় সুইসাইড মিশন।
‘আর সুয়েজ ক্যানেলে একটা শক্তিশালী বোট চাই,
এমুনিশন সহ।’ চাহিদা জানান দিল শাইলক।
‘থাকবে। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না,
সাইফ নিশ্চয়ই একা একা ট্রেজার বের করে নিয়ে
যেতে পারবে না। বিশ্বস্ত লোক লাগবে অবশ্যই।
কোথায় পাবে সেটা?’ প্রশ্ন করল ইউরি।
‘এই একটা প্রশ্নের উত্তর আমিও খুঁজে চলেছি
অনেকক্ষণ ধরে।‘ চিন্তিত দেখাল শাইলককে।
***
পরদিন। আজই মিশরে শেষ রাত সাইফের জন্য। সন্ধ্যা
ঘনাতেই ডিনার সেরে নিল ধীরে সুস্থে। দিনের
বেলাতেই সুমাইয়া আর শেইখ সালাহউদ্দীনকে বাড়ি
পাঠিয়ে দিয়েছে।
ডিনার শেষ হতে না হতেই আকিল হাসানের কল এল
সাইফের ফোনে। জানাল, নিচে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে
গেছে সে।
শেষবারের মত রুমে চোখ বুলিয়ে নিল সাইফ। কেমন
একটা মায়া পড়ে গেছে রুমটার প্রতি। সব কিছু চেক
করে বেরিয়ে এল। চেক আউট করে ড্রাইভওয়েতে পা
রাখতেই আকিলকে দেখা গেল একটা কালো রেঞ্জ
রোভার নিয়ে অপেক্ষা করছে ওর জন্য। সাইফকে
আসোতে দেখেই দরজা খুলে দিল।
‘এখন মিস সুমাইয়ার বাড়িতে যাব?’
‘হ্যাঁ।’ ছোট্ট করে জবাব দিল সাইফ।
গাড়ি ছেড়ে দিল আকিল।
সন্ধ্যা থেকেই ঘুরঘুর করছিল এক লোক হোটেলের
ড্রাইভয়েতে। গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একটা
ক্ষুদে বিপার লাগিয়ে দিতে তেমন অসুবিধায় পড়তে
হয়নি তাকে। গাড়ি স্টার্ট দিতেই একটিভ হল সেটা।
আধমাইল পেছনে থাকা শাইলকের রিসিভারে
স্পষ্টই জানিয়ে দিল সাইফের গাড়ির অবস্থান। দূরত্ব
না কমিয়েই ড্রাইভারকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিল
শাইলক।
মিনিট বিশেক পরেই সাইফের গাড়ি শেইখ
সালাহউদ্দীনের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।
এখানে কিছু সময় গেল বিদায় পর্বে। সুমাইয়াকে
যতটা মনে করেছিল মেয়েটা নিজেকে তার চাইতেও
শক্ত প্রমাণ করল। কান্নাকাটি ছাড়াই বাপকে
বিদায় জানাল, অথবা ও পর্ব আগেই সেরে নিয়েছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজন আরোহীকে নিয়ে
গাড়িটা শহর ছেড়ে বেরিয়ে এল। হাইওয়ে ধরে দুরন্ত
গতিতে ছুটে চলল কিছুক্ষণ। কিছুদুর যাবার পরই দুটো
ট্রাককে থেমে থাকতে দেখা গেল রাস্তার পাশে।
গাড়ি থামিয়ে দিল আকিল। ট্রাক দুটোর একটা
খালি, আরেকটাতে পোর্টেবল ক্রেন বসানো
রিয়েছে একটা। দুটো ট্রাকেই দুজন করে আরোহী।
‘অল ওকে?’ গলা উঁচিয়ে প্রশ্ন করল সাইফ।
‘ইয়েস বস!’
লোকগুলো তেমন কোনো কারণ ছাড়াই সাইফকে বস
বলে ডাকা শুরু করেছে। মাত্র একদিনের পরিচয়েই
ওকে দারুণ পছন্দ করে ফেলেছে কঠোর এই
মানুষগুলো।
‘আল্লাহর নাম নিয়ে তবে যাত্রা শুরু করা যাক।’
খানিকবাদেই গাড়ির ছোট্ট বহরটা রওনা হয়ে গেল
ধ্বংসপ্রায় পিরামিডটার উদ্দেশ্যে।
পাক্কা এক ঘন্টা লাগল গন্তব্যে পৌছতে। জায়গামত
পৌছেই ঝুঁকি থাকা সত্বেও ট্রাকের ব্যাটারির
সাহায্যে দুটো শক্তিশালী লাইট জ্বালানো হল।
একটা লাইট বড় কেবলের সাহায্যে পাঠিয়ে দেয়া
হল পিরামিডের অভ্যন্তরে ট্রেজাররুমে। বাকিটা
বাইরেই থাকল। ক্রেনের দায়িত্বে আবু গায়াসিকে
রেখে সুমাইয়া বাদে বাকিরা ঢুকে পড়ল ভেতরে। এই
পাঁচজনের কাজ ট্রেজাররুম থেকে বাক্সগুলো
প্রবেশপথের নিচে এনে রাখা, আবু গায়াসি
ক্রেনের সাহায্যে সেটা তুলে রাখবে খালি
ট্রাকটায়।
সোনার মত ভারী ধাতুর কারণে বাক্সগুলো জগদ্দল
পাথরের মতই ভারী। পাঁচজন শক্তিশালী মানুষেরও
কালঘাম ছুটে যাচ্ছে! এক ঘন্টার বেশি লেগে গেল
ছয়টা বাক্স ট্রাকে ওঠাতে। খানিক বিশ্রাম নিয়ে
তেরপল দিয়ে বাক্সগুলো বাঁধতে বাঁধতে আরো
আধঘন্টা।
ক্রেনের কাজ শেষ, সেই সাথে আবু গায়াসিরও।
ক্রেন বসানো ট্রাকটা নিয়ে ফিরে যেতে হবে
ওকে। মন খারাপ হয়েছে বেচারার, বোঝাই যাচ্ছে।
তবে কাউকে না কাউকে তো কাজটা করতেই হবে,
মেনে নিয়েছে সে।
আবু গায়াসির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আনোয়ার
ইব্রাহিম আর বাদরু আজিজি উঠে পড়ল ট্রেজার
ভর্তি ট্রাকে। বাকিরা রেঞ্জ রোভারে। রওনা হয়ে
গেল সুয়েজ ক্যানেলের উদ্দেশ্যে। দূরত্ব ১২৮
কিলোমিটার।
ঠিক সেই মুহূর্তেই নড়ে উঠল কিছুটা সামনে এগিয়ে
থাকা শাইলকের গাড়িটা। সেই সাথে শুরু হয়ে গেল
অঘোষিত যুদ্ধটাও।

#_সিন্দুকের_রহস্য _(অজানা এক বাংলা ভুতের গল্প) -www.banglavutergolpo.Ml


Mysterious woman ghost on dark background. Halloween scene

#_সিন্দুকের_রহস্য __________

Horror Time
★আজ দীর্ঘদিন পরীক্ষা শেষে ছুটি পেয়েছি। ভাবছি কোনো এক জায়গায় ঘুরতে যাব। অবশ্য পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে টেনশনও আছে, তবে এই সময়টা যদি উপভোগ না করি তাহলে কোনো অভিজ্ঞতাই অর্জন হবে না কেননা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও একটা জগত আছে। যাই হোক, এই চিন্তা মাথায় আসতেই সাথে সাথে কল দিলাম বেস্ট ফ্রেন্ড তাসনিমকে। ওর মত নিয়ে আমার আরেকটা বেস্টফ্রেন্ড রিয়াদকে কল দিলাম। রিয়াদ বলল..."চল, সবাই আমার গ্রামে যায়। সেখানে অনেক মজা করবো। আর জানিস! গ্রামের শেষ প্রান্তে একটা বাড়ি আছে, আমার সেখানে একটিবার যাওয়ার অনেক আশা। সবাই বলে ওটা নাকি একটা ভৌতিক বাড়ি। চল গ্রামে যায় আর ঐ বাড়িটার রহস্য উদঘাটন করি। আর আমার ভৌতিক কিছুতে বিশ্বাস নেই, তবুও গ্রামের মানুষ সেদিকে যায় না কেন এটা জানার খুব আগ্রহ আমার। কিন্তু সুযোগ পাইনি একা যাওয়ার। তোরা গেলে সেখানে যেতে পারব। কি বলিস!_" এসব শুনে আমার অনেক আগ্রহ জন্মালো। আমি যটপট হ্যাঁ করে দিলাম। সাথে প্রাণপ্রিয় এক ভাই অভ্রকেও একথা জানালাম। সে তো কোনোদিকে যেতে বললেই আগে দৌড়ে। তারও মত নিলাম। আমরা চারজন একসাথেই বেরোব কাল সকাল, সাথে তাসনিমের বোন তামান্নাও। উফফ, আমি তো যেন ওয়েটই করতে পারছি না।
.
সকাল হল। নাস্তা করতেই ব্যাগ গুছানোতে লেগে পড়লাম। পাশ থেকে মোবাইলের ক্রিং ক্রিং আওয়াজ ভেসে আসল। নিশ্চয় তাসনিম। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে...
--কি রে! বের হচ্ছিস না? বেড়াতে যাচ্ছি যে সেখানেও লেইট..?_
--আরে ইয়ার, বের হচ্ছি তো। এইতো গাড়িতে উঠে পড়লাম। (বকা না শুনার বাহানা)_
--আমরা, রিয়াদ আর অভ্র ভাইয়াও বের হয়ে পড়ছে। তুই তাড়াতাড়ি বের হ।_
--জানি, আচ্ছা বের হচ্ছি। বাই।_
বলেই ফোন রেখে দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে আম্মুকে বলে বের হয়ে পড়লাম। অবশ্য আম্মুর বকুনি সব অনুমতি নেওয়ার সময় খেয়েছিলাম, তাই এখন আর পাওনা নেই। আর ঐখানে যাওয়ার আসল কারণটাও বলিনি ওনাকে, বললে তো যেতেই দিতেন না।..
বাসস্ট্যান্ড এ এসে পড়েছি এতক্ষণে। সাথে বাকিরাও এসে পড়েছে। সবাই সাথে করে বাসে উঠলাম। বেশ দূরের পথ। যেতে মিনিমাম ২ ঘন্টা লাগবে। বাস ছেড়ে দিয়েছে। গ্রামে কি উদ্দেশ্যে যাচ্ছি সেটা শুধু আমার আর রিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা যদি অমত দিত তবে যাওয়াটা হত না। সবার জানা উচিত তাই এখন আর লুকানো যাবে না। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বাড়িটার কথা বললাম।..
তাসনিম তো বিস্ফোরক চোখে দেখছে, যেমন এই এখন গিলে খাবে আমায়। আমি তাদের বুঝালাম পৃথিবীতে ভৌতিক কিছুর অস্তিত্ব নেই। এসব ভৌতিক কিছুর সঞ্চার মানুষের মাধ্যমেই ঘটে আর কিছু না। এসব বুঝানোর পর সবাই সেখানে যাওয়ার জন্য রাজি হল।
.
অনেক মজা মাস্তি শেষে প্রায় ৩ঘন্টা পর গ্রামে এসে পৌঁছলাম। এই শীতে রোদের আভায় গ্রামটা যেন হলদে হয়ে আছে। অথচ শহরে এই সময়ে চাঁদর মোড়ে দিয়ে কানে হ্যাডফোন গুজিয়ে গান শুনি। যাই হোক, এখানে রিয়াদ তার বাড়িতে নিয়ে আসল আমাদের। রিয়াদের দাদা, চাচা সবাইকে সালাম করলাম। ওনারা সবাই আমাদের দেখে অনেক খুশি হলেন। রিয়াদের চাচি আমাদের মেয়েদের তিনজনকে থাকতে একটা রুম দেখিয়ে দিলেন। আর রিয়াদ, অভ্রকে নিয়ে ওর রুমেই থাকবে।..
রাত ১০টার দিকে সবাই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল শুধু আমরা ছাড়া। শহুরে মানুষ, এই রাতও কোনো রাত হইল! রিয়াদ চুপিস্বরে এসে আমাদের রুমের দরজায় টোকা দিল। দরজা খোলার পর ও ঢুকে পড়ল। একটু পর অভ্রও চলে আসল। সবাই রিয়াদকে উদ্দেশ্য করে বললাম..
--কি রে, এত রাতে এখানে কী!_
রিয়াদ বলল..
--যা করার জন্য আসছি, তা এখনই করতে হবে। ঐ বাড়িটার কথা গ্রামের সবাই জানে। কয়েকজন তো কৌতূহলবশত সেখানে গেছিল কিন্তু আর ফিরে আসেনি। তাই গ্রামের কেউ সেখানে যায় না। আর দিনের বেলায় গেলে কেউ আমাদের দেখে ফেলবে। তাছাড়া গ্রামের লোকরা এই টাইমে ঘুমিয়ে পড়ে। আমরা না হয় এখনই বের হয়।_
আমাদের একটু সংকুচ হল। পরক্ষণে রাজি হয়ে গেলাম। ওর কথাও ঠিক। অমন জায়গায় কাউকে হয়ত যেতে দিবে না।
আমরা প্রয়োজনীয় টর্স এটা ওটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। গ্রামের একদম শেষপ্রান্তে বাড়িটা, একদম নিস্তব্ধ এক জায়গা। আশেপাশে কিছু গাছ আছে। মাঝেমাঝে কিছু শেয়াল ডাকছে। এক কথায়, ভয়ানক একটা পরিবেশ। রিয়াদ ফিসফিসিয়ে বলল...
--তোরা জানিস! অনেকের মতে এখানে একটা ভাল লোক বাস করতেন। ওনার একটা মেয়েও ছিলেন। মেয়েটা কি কারণে যেন আত্মহত্যা করেছিল, এরপর লোকটাও এসব সইতে না পেরে মারা যায়। তখন থেকে নাকি এই বাড়িটা ভৌতিক হয়ে উঠে। দুই একজন যারা এখান থেকে বেঁচে ফিরেছিল তাদের মতে এখানে নাকি ওরা সেই মেয়েটাকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখছে আর লোকটার লাশও ছিল সেখানে। জানি না, এসব সত্য কি না।_
রিয়াদের কথা শুনতে শুনতে আমরা বাড়িটার সন্নিকটে চলে আসলাম। হঠাৎ....
(চলবে..!)
(*আজ অনেকদিন পর গল্প লিখলাম। এমনিতে রুপকথার গল্প লিখি। এইবার কিছু ভৌতিক হয়ে যাক। আশা করি, সবাই আশানুরূপ মন্তব্য করবেন।)

অভিমানী নারী।(একটি ভূতের গল্প) (অজানা এক বাংলা ভুতের গল্প) -www.banglavutergolpo.Ml

ghostly silhouette in spooky dark forest

অভিমানী নারী।(একটি ভূতের গল্প)

ভূত ছিলো, আছে থাকবেই…
বিকেল বেলা আকাশটা খুব পরিস্কার ছিল। আকাশে ছিটে ফোটা মেঘও ভাসতে দেখিনি। লাল হতে হতে সূর্যটা যখন বিদায় নিলো তখনো ছিল মেঘ মুক্ত স্বচ্ছ আকাশ। আমার ঘরে বিদুৎ নেই মাস খানেক যাবৎ। বিদুৎ অফিসের লোকজন মিটার খুলে নিয়ে গিয়েছে। তাদের দাবী আমি নাকি গত পাঁচ মাস বিদুৎ বিল দিচ্ছি না। তাদের এতো করে বললাম যে আমার কাজের ছেলে হানিফ মিয়া প্রতি মাসে বিল দিয়েছে, তারা আমার কথা বিশ্বাস করলো না। বাধ্য হয়ে হানিফ কে ডাকলাম। অবাক কান্ড হানিফকে কোথাও খুজে পেলাম না। অথচ গত চার বছর সে আমার কাছেই ছিল। হানিফের বিস্থ্যতা প্রশ্নাতিত ছিল। সে কি শুধু বিদুৎ বিল মেরেছে, নাকি আরো কিছু করেছে? ডজন খানেক মোমবাতি কিনে ছিলাম। সাথে হারিকেন আর কেরোসিন তেল। মোমবাতি শেষ, তাই হারিকেনের লাল আবছা আলোয় বসে তিন দিনের বাসি পেপার পড়ছি। অজপাড়া গা না হলেও এই গ্রামটা থানা সদর থেকে অনেক দুরে। রাস্তা ঘাট তেমন সুবিধের না। কাচা মাটির রাস্তার উপর ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়ে ছিল। তবে সেই ইট এখন আর তেমন একটা নেই, আছে কেবল মাটি। আমার বাবা কবি ছিলেন। তিনি শেষ জীবনটা গ্রামে কাটাবেন বলে এই সেমিপাকা বাড়িটা করে ছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ জীবনটা কাটাতে পারেন নাই। কারন বাড়ির কাজ শেষ হবার আগেই তিনি এই বাড়িতে আসার পথে বাস দুঃর্ঘটনায় মারা যায়। তখন আমি স্কুলে দশম শ্রেনীতে পড়তাম। বাবার সরকারী চাকুরি ছিল। মা পেনশন আর জমানো টাকা দিয়ে আমাদের বড় করেন। আমরা তিন ভাই। সবাই ভাল চাকুরি করছি। ছোট দু’ভাই শহরে বেশ ভাল রোজগার করছে। তবে বাবার ইচ্ছে পুরন করার জন্য আমি এই গ্রামে পড়ে আছি। আমার শহরের বন্ধুরা আমাকে পাগল ভাবছে। ওদের ধারনা আমার মাথার স্কু ঢিলা আছে। তবে আমি স্কু নিয়ে ভাবছি না। আমার মায়ের ধারনা বাবার সব কিছু আমি পেয়েছি। সে আমাকে নিয়ে বেশ বিচলিত। তবে আমার খুব ভাল লাগছে এখানে থাকতে। স্থানীয় কলেজের বাংলায় অধ্যাপনা করছি। প্রতিদিন পুরো পত্রিকা পড়া আমার নেশা। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এখানে সঠিক সময় পত্রিকা পৌছায়না। পিয়নটাও বজ্জাত কখনো কখনো তিন চার দিনের পত্রিকা এক সাথে দিয়ে যায়। দু’দিন পর আজ বিকেলে পিওন পত্রিকা দিয়ে গেল। বাসি পত্রিকাই মনোযোগ দিয়ে পড়তে ছিলাম। হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলো। ধপাস করে জানালার কবাট আছড়ে পড়ল। বিকট শব্দ হল। খোলা জানালা দিয়ে প্রবল বাতাস ঘরে ঢুকে সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে যেন। আমি দ্রুত জানালা বন্ধ করে ফেললাম। আশে-পাশে কোথাও ব্যাপক শব্দে বাজ পড়ল। বিদুৎ চমকাচ্ছে খুব। বাইরে নিকষ কালো অন্ধকার। আকাশে মেঘ জমার ফলে অন্ধকার এত গভির। আধার আমার ভাল লাগে। গভির রাতে আমি জানালা খুলে আধার দেখি। ইচ্ছে হয় আধারে হারিয়ে যেতে। হানিফ অবশ্য আধার খুব ভয় পায়। ওর ধারনা এ বাড়িতে একটা মেয়ে ভুত আছে। যে সাদা শাড়ি পড়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। ওর বর্ননায় ভুতটার বয়স বেশি না। উনিশ কুড়ি বছর হবে। তবে সে ভয়ানক সুন্দরী। পুকুর ঘাটে প্রায়ই রাতে তাকে দেখা যায়। হানিফ সেই ভয়ানক সুন্দরী ভুতের ভয়ে অস্থির! আমি ছোট বেলায় মায়ের মুখে অনেক ভুতের গল্প শুনেছি। তাই হানিফের গল্প বেশ পরিচিত মনে হয়েছে। আমি জানি ভুত বলতে কিছু নেই। সবি দূর্বল চিত্তের মানুষের কল্পনা মাত্র। হানিফ এই গল্প সারা গ্রাম ভরে শুনিয়েছে কিনা কে জানে? পরশু সন্ধায় চায়ের দোকানদার ফজুলু মিয়া আমাকে ডাকলো। কাছে যেতেই মোলায়েম স্বরে বললো – বাবাজি ভালো আছোনি? – জ্বি। ভালো। – বসো, চা খাও। না চাচা, আমার হাতে সময় নেই। এবার তিনি সিরিয়াস ভংঙ্গিতে বললেন, কি দরকার বাবা ঐ অভিশপ্ত বাড়িতে একলা পড়ে থাকার ! তুমি শহরের মানুষ তোমার কি এতবড় রিস্ক নেওয়া ঠিক হইতাছে? ভুত-প্রেত কি বাবা শিক্ষিত দেইখা তোমারে সুযোগ পাইলে ছাইড়া দিবো? Ñ এ ব্যাপারে অন্যদিন কথা বলবো আজ আমার হাতে সময় নেই। আমি মুচকি হেসে চলে আসায় ফজুলু কাকা বেশ আহত হল। ফজলু কাকা খুব সুন্দর করে গল্প বলে। তার চায়ের দোকানের কাষ্টমারগণ খুব ভাল ¯্রােতা। ভুত-প্রেত নিয়ে তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া দু’একটা গল্প সে হয়ত আমাকে শুনাতে চেয়েছিল। কিন্তু বিকেল বেলা আমার কফি খাওয়ার নেশায় ধরে তাই তাকে রেখে চলে এসেছি। ফজলু মিয়া বিরবির করে কি যেন বললো। বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। কিন্তু পিছন ফিরে তাকাইনি। পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে আমার রুমে পূর্ব দিকের কোনায় তাকালাম। বাতাস প্রবেশের জন্য যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে সেখানে একটা চড়–ই পাখি বাসা বেধেছে। পাখিটা প্রতিদিন আমার কাজ কর্ম মনোযোগ সহ লক্ষ করে আসছিল। আজ চড়–ই পাখিটাকে দেখছি না। সে হয়ত তার কোন আত্মিয়র বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে। আচ্ছা পাখিদের কি আত্মিয়র বাড়ি আছে? নাকি সেও ভুতের ভয়ে চলে গিয়েছে! আমার বাবা বাড়িটা বেশ বড় করেই তৈরী করে ছিলেন। সামনে পুকুর ঘাট। আর উত্তরের দিকে ফুলের বাগান। দক্ষিনে ফাকা মাঠ। সুযোগ পেলে আমি মাঠে গিয়ে বসি। তেমনি গতকালও বসে ছিলাম। তখন মিজান এসে আমার সামনে দাড়ালো। মিজান এই গ্রামেরই ছেলে। বয়স ১৭ বছর হবে। সে কৃষি কাজ করে। আমি বললাম কি কেমন আছ মিজান? মিজান বললো আপনি অনেক সাহসী, না? হেসে বললাম না, আমি একটা ভিতুর ডিম! মিজান বললো আমি অনেক দিন ধরে গরু চরাই কিন্তু আপনাদের মাঠে এত ঘাস থাকলেও গরু বাধতে পারি না। আমি অবাক হয়ে বলি কেন? মিজান নিচু স্বরে বলে, যত বারই গরু বাধি এসে দেখি রশি ছিড়ে গরু পলাইছে। এমন কি আপনাগো বাড়ির সামনে দিয়ে গরু নিয়ে যাবার সময় গরু গুলি দৌড় দেয়! আমি হেসে বললাম তোমার গরুর দৌড় দেয় কেন? ও অবাক হয়ে বললো, কেন দেয় আপনি জানেন না? আমি মাথা দুলিয়ে বললাম নাতো? কেন দেয়? ও আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো, আপনাদের বাড়িতে ভুত আছে। গরুরা ভুত দেখতে পায়, তাই ওরা দৌড় দেয়। আমি বললাম এমন আজব তথ্য তুমি কোথা হতে পেলে? ও আহত হয়ে বলে ,আমার দাদা বলেছে। দাদা ভুতের ওঝা সে সব জানে। ওর দাদা ওঝা বলে মিজানের চোখে খুব অহংঙ্কার। কিন্তু আমি তার বা দাদার সর্ম্পকে কোন আগ্রহ না দেখানোয় সে খুব আহত হয়। আমার উপর রাগ করে চলে যায় মিজান। আমি ছেলেটার রেগে চলে যাওয়া দেখে ভাবি সত্যি পৃথিবীতে সবাই তাদের কাঙ্খিত মূল্যায়নটুকু চায়, না পেলে আহত হয়। ধপ করে হারিকেন নিভে গেল। ভাবনায় ছেদ পড়ল। টেবিলের ড্রয়ারে আমি নিজ হাতে ম্যাচটা রেখেছি কিন্তু এখন খুজে পাচ্ছিনা। কালো অন্ধকারে চারপাশ ছেয়ে গিয়েছে। দু’চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কে যেন আমার রুমে প্রবেশ করল। হাটা চলার শব্দ পাচ্ছি। পায়ের নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ শুনছি। কিন্তু কাউকে দেখছি না। বুকের ভেতর আচমকা শূন্যতা অনুভব করছি। ভয় লাগছে। আমি জানি এই ভয়কে প্রশয় দেওয়া ঠিক হবেনা। ভয়কে মন হতে দুর করতে হবে। কিন্তু পারছিনা। গলা শুকিয়ে আসছে। কে যেন আমার কাধে হাত রাখল। ভয়ানক ঠান্ডা সেই হাত। ভাবছি দরজা খোলার শব্দ পেলাম না কিভাবে ঢুকলো আগন্তুক!! হটাৎ করে কেউ একজন আমার কাধে হাত রাখলো ভয় পেয়ে আতকে উঠে বললাম, কে কে আপনি?। বেশ গম্ভীর স্বরে এক নারী কন্ঠ বলল Ñ ভয় পেওনা আমি সুরভী। এই নাও তোমার দিয়াসলাই। ম্যাচ দিয়ে দ্রƒত হারিকেন জ্বালালাম। হারিকেন জ্বালাতেই খেয়াল করলাম আমার সামনের চেয়ারে সাদা সালোয়ার পড়া এক নারী বসে আছে। তার মুখটা মায়াবী তবে চোখের নিচে কালি জমেছে। চোখে মুখে বিষণœতা। তার এই আচমকা ঘরে প্রবেশ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে ছিলাম। তবে এখন কিছুটা সাহস পাচ্ছি। আমি সুরভীর দিকে তাকিয়ে বললাম, আপনি কি করে ঘরে ঢুকলেন? আমিতো ঝড়ের রাতে আপনাকে এভাবে আচমকা প্রবেশ করতে দেখে ভয় পেয়েছি। ভেবেছি আপনী একটা ভুত! হাঃ হাঃ করে ঘর কাপিয়ে হেসে উঠল সুরভী। শ্লেষমাখা কন্ঠে বললো, Ñ তুই ঠিকই ভেবেছিস, আমি একটা ভুত! কিন্তু আমি একটা ভাল মানুষ ছিলাম। একটা লক্ষি মেয়ে ছিলাম। আমার বুকে কত স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমি জীবনে কিছুই পেলাম না। ডুকরে কেদে উঠে নিজেকে ভুত দাবী করা সুরভী। আমার দিকে তাকিয়ে বলে তোর বাবা একটা খুনি! আমাকে মেরে ফেলেছে তোর বাবা বিখ্যাত কবি রশিদ আহম্মেদ। কথা শেষ করে আমার দিকে ক্রোদ্ধভরা দৃষ্টিতে তাকায় সুরভী। ওর দৃষ্টি আগুনের মত আমার শরীরে বিদ্ধ হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহব্বল হয়ে পড়ি আমি। হৃদয়ে সুনামীর মত তোলপাড় শুরু হয়। কি বলছে এই নারী! পাগলের প্রলাব নয়তো? আমি শুধরে দেবার চেষ্টায় বললাম, দেখুন আমার বাবা ১৬ বছর হল মারা গিয়েছে। কেন তাকে নিয়ে এমন বাজে কথা বলছেন? কেন আমাকে আহত করছেন? আমার বাবা আমার জীবনের সব, তার দেখানো পথে চলছি আমি। সে আমার কাছে চাদেঁর মতই নিস্পাপ। এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে বুকটাকে হালকা করার চেষ্টা করি আমি। তবে সুরভীর কোন ভাবান্তর হয়না। সে তাকিয়ে আছে শূন্যে। তার চোখে জ্বল। হারিকেনের লাল আলোতে তার মুখটা ভারি মায়াবী মনে হয়। সুরভী দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে। আমার দিকে তাকিয়ে বলে তুমি কি তোমাদের বাড়ির পূর্ব দিকের কোনর ঘরটা কোন দিন খুলে দেখেছো? না। ওটাতো বোধহয় ষ্টোর রুম। কোথাও চাবি খুজে পাইনী। কেন? শিতল গলায় সুরভী বলে ওখানে আমার কঙ্কাল ঝুলে আছে। ভয়ে আমার শরীরের লোম দাড়িয়ে যায়। শুকনো গলায় আমতা আমতা করে বলি, Ñ কি বলছেন? তা হবে কেন? Ñ তোমার বাবা আমাকে ঐ রুমে তালাবদ্ধ করে রেখে ছিল। Ñ কেন? Ñ জানিনা তুমি বিশ্বাস করবে কি না তারপরও বলছি, তোমার বাবা যখন বদলী হয়ে আমাদের চট্রগ্রাম শহরে এল তখন সে আমাদের পাশের বাসা ভাড়া নিয়ে ছিল। একদিন কলেজে যাবার পথে তার সাথে পরিচয় হল। জানলাম সেই আমার প্রিয় কবি রশিদ আহম্মেদ। তার লেখা রোমান্টিক কবিতা গুলো ছিল অসাধারন! সে আমাকে তার স্বরচিত কবিতা আবৃতি করে শুনাতো। কিছুদিন তার সাথে চলার পর দেখলাম তার কবিতার চেয়েও সে বেশি অসাধারন। আমিই প্রথম তার প্রেমে পড়ে ছিলাম। বড় অসম ছিল সেই প্রেম। তোমার বাবা আমাকে বুঝাতে চেয়েছে অনেক। কিন্তু আমি জানতাম সেও ভালবেসে ফেলেছে আমাকে। কথা থামিয়ে উড়নায় চোখ মুছে সুরভী। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে অন্ধকারে তাকিয়ে থাকে। আমার শরীর অবশ হয়ে আসতে ছিল। মনে হচ্ছে ভয়ানক কোন দুঃস্বপ্ন দেখছি আমি। Ñ তারপর কি হল? সে কিছুটা ক্লান্ত যেন। তারপর বিষণœকণ্ঠে উত্তর দেয় Ñ আর কি হবে? তোমার বাবা এক সময় আমার কাছে স্বিকার করলো যে সেও আমাকে ভালবাসে। তারপর সে গ্রামে বাড়ি বানালো। সে জানতো তোমার মা শহরের মেয়ে সে কোনদিন গ্রামে আসবে না। গ্রামে থাকবো আমরা দু’জন। বাড়ি বানানো যখন শেষ তখন সে আমার জোড়াজুড়ির কারনে নিয়ে আমাকে এই অভিশপ্ত বাড়িতে নিয়ে আসলো। সারা রাত ট্রেন জার্নি করে বেশ ক্লান্ত ছিলাম। সে তাই আমাকে বললো তুমি ঘুমাও আমি এখন যাচ্ছি বিকেলের আগেই ফিরবো। তারপর বিকেল গড়িয়ে রাত.. ..। সে আর এলনা। বন্দি আমি না খেয়ে দুশ্চিন্তায় কাটিয়ে দিলাম আরো একটা দিন। কেউ এল না। তৃতীয় দিন এত বেশি দূর্বল হলাম যে নড়তে পারলাম না। ভারি অভিমান হল আমার। মনে হল তোমার বাবা আমাকে খুন করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছে। সে আমাকে না খাইয়ে মেরে ফেলার জন্যই আমাকে রেখে ভেগেছে। তখন চারদিক ছিল জনশূন্য। এখনের মত এত বাড়ি ঘর ছিলনা। চিৎকার করে ছিলাম অনেক কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। তাই ধুকে ধুকে না মরে অভিমান করে উড়না দিয়ে আত্মহত্যা করলাম। সুরভী কথা থামিয়ে আমার দিকে তাকালো। কষ্টে আমার বুক ভেঙে যাচ্ছিল। নিয়তির নির্মমতায় একটি তাজা প্রাণের অপমৃত্য মানতে পারছিলাম না। আমি বললাম আপনি এখন হয়ত জানেন বাবা সেই রাতে বাস এ্যাকসিডেন্টে মারা গিয়ে ছিলেন। সুরভী ফ্যাকাসে হেসে বললো এসব জেনে আর লাভ কি? আমি বোধহয় ঘুমিয়ে পড়ে ছিলাম। যখন উঠলাম তখন সকাল হয়ে গিয়েছে। রাতের ঘটনা মনে পড়ল। ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলাম। তারমানে আমি স্বপ্ন দেখে ছিলাম? হাফ ছেড়ে বাচলাম! কৌতুহলের কারনে বিছানা থেকে উঠে শাবল দিয়ে পূর্বের রুমের তালাটা ভেঙে ফেললাম। দরজা খুলতেই আতকে উঠে চিৎকার দিলাম! ফো¬রে পড়ে আছে একটা কংঙ্কাল।

নাগ.মনি.এক.রহ্যস(অজানা এক বাংলা ভুতের গল্প) -www.banglavutergolpo.Ml



গল্পের নাম : নাগ.মনি.এক.রহ্যস.................
.
লেখক : Joshim_Ahmed...........
.
........PART ..........3..............


নিলা : কিহয়েছে অর্জুনের মুখে রক্ত কেনো
অর্জুন : আমার কিছু হয় নি আরিয়ান একটা দানব রাজ্জে নাগ মনির জন্য এসেছে সেই আমার এই অবস্তা করেছে ।
আরিয়ান : আমি দেখছি অর্জুন বলেই চলে এলো রাজ পেসাদের বাইরে । এসে দেখে এক বিশাল দানব রাজ পেসাদের দিকে
এগিয়ে আসছে । আর এদিকে প্রোজারা
সবাই আরিয়ান কে দেখে তার জন্য মায়া
করতে থাকে দানব এসে আরিয়ান কে এক হাত দিয়ে উপরে উঠিয়ে ফেলে ।
দানব : নাগমনি দে না হলে তোকে মেরে ফেলবো । হাহাহাহা আমি রাজত্ব করবো।
আরিয়ান : তোর মনের ইচ্ছা কোনে দিন ও পুরন হবে না শয়তান বলেই এক লাফে
ঘারের উপর উঠে গেলো আরিয়ান তার পর চোখ দিয়ে এক জলন্ত আগুন বেরিয়ে এলো আরিয়ানে দানোবের সমস্ত শরির পুরে মারা গেলো বিশাল দানব । সকল পোজারা অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে আর তার পরেই. আরিয়ানের জন্য হৈ হুলো পরে গেলো সারা রাজ্জে সবার যেন আর খুশির সিমা নেই তার পর আরিয়ান পেসাদে ফিরে আসে । অর্জুন : কি অবস্তা বাহিরে
আরিয়ান : তোর সেই চিন্তা করতে হবে না । নিলার মুখে যেন হাসি ফুটে উঠলো ।আরিয়ান : মনে মনে বলল সবাই কে হাসি
খুশি দেখতে কতই না ভালো লাগে ।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আরিয়ান
সবাই কে বলল আগামি কাল থেকে
অর্জুন কে এই রাজ্জের রাজা করে দিবেন
মোহন রাজ : তাহলে তোর কি হবে আরিয়ান
আরিয়ান : তা নিয়ে বাবা চিন্তা করো না । আমি তো এখন নিলকান্ত রাজ্জের রাজা
। শুনে অনেক টা খুশি হলে মোহন রাজ
রাজ যতিসি : তাই ভালো কাল রাজ্জো অভিশেক করুন মহারাজ খুবিই ভালো দিন আরিয়ানের কথা আপনাকে চিন্তা রকতে হবে না সে খায়াল রাখতে পারবে
মোহন রাজ : তাহলে তাই হোক আগামি কাল রাজ্জ অভিশেকের ব্যবস্তাকর
রাজ যতিসি : ঠিক আছে সমস্ত ব্যবস্তা করছি ।
পরের দিন রাজ্জের সকল পোজারা আসলো ধুম ধাম করে অর্জুনের রাজ্জ অভিশেখ করলো সারা দিন আনন্দে কাটলো সবার এখন অর্জুন ই এই কাশি পুর রাজ্জের নতুন রাজা রাতে সবাই কে
এক সাথে ডাকলো আরিয়ান বলল ।
আরিয়ান : আগামি কাল থেকে আমাকে
নিলকান্ত রাজ্জে থাকতে হবে আর হা
আমাকে না বলে কেউ নিলকান্ত রাজ্জে পোবেস করবে না তাহলে বিপদ হতে পারে
ওটা সুধু সাপে দের রাজ্জ তারা মানুষ কে
দেখলেই কামরে দেয় তাই কোনো দরকার
থাকলে অর্জুন কে পাঠিয়ে দিয়ে আমি চলে আসবো বলেই আরিয়ান তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় কাউকে কিছু
বলতে সময় দেয় না .
রাজ যতিসি : মহারাজ আরিয়ান যা বলছে তা সবার ভলোর জন্য বলছে আরিয়ান কে কোনো পোকার বাধা দিবেন না । আরিয়ান কে আগামি কাল সকালে সবাই হাসি মুখে বিদায় দিবেন বলেই চলে গেলো যতিসি
কথা মতো পরের দিন .অর্জুন,নিলা,মহ
ারাজ,রানি,রাজ্জের
সকল সৈনো পোজারা আরিয়ান কে হাসি
মুখে বিদায় দিলো আরিয়ান চলে এলো নিলকান্ত রাজ্জে তার পর যে যার মতো করে রাজ্জ ভার বুঝে নিলো অর্জুন অনেক নিস্ঠার সংগে রাজ্জ পরি চালনা করছে । আর এদিকে আরিয়ান আর আগের মতো
ঘুমোয় না প্রতি দিন সকাল ৫টায় উঠে
আর অনেক মেহনত করতে থাকে এই ভাবে চলতে থাকে । আরো ২ বছর পর
আরিয়ান সুনতে পেলো অর্জুন বাবা হয়েছে আর আরিয়ান কাকা ,নিলা মা হলো ছুটে আরিয়ান আর নাগ রাজ সংখ
কাসি পুর রাজ্জে এসে পরে তার পর
সারা রাজে আনন্দয় ভরে উঠে এবার চার
পাসে খেয়াল করে অনেক অবাক হয় আরিয়ান কেমন যেন এই রাজ্জের ...............
....চলবে .... ..........
.
.
বাকি অংশ ...........৪র্থ
............পর্বে .......
.
কেমন হলো বন্ধু রা কমেন্ট করে জানান
ভালো লাগলে অনেক পার্ট করবো আর
না ভালো লাগলে শেষ করে দিব । আপনা
দের তেমন কোনো সারা পাচ্ছি না আমি ।
গল্পটা কি ভালো লাগছে না আপনাদের ।

#দ্যা_ডেভিল_ফ্রেন্ড



#দ্যা_ডেভিল_ফ্রেন্ড
পর্ব-০৫(শেষের পর্ব)


আবার পুরনো দিন গুলোর কথা বারর বার মনে হতে থাকে "দীপুর"। রবিনের সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো কিছুতেই ভুলতে পারে না সে। বারবার নিজেকে অপরাধী মনে হয় তার।যার জন্য দীপুর মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে দিন দিন।
আগে হয়তো দীপুকে রাস্তায় রাস্তায় একা একা কথা বলতে দেখা যেতো তবে এখন সে রাস্তায় একা হাঠে ঠিকই কিন্তু কথা বলে না।দিনদিন কেমন জানি বদলে যাচ্ছে "দীপু"। তার এই বদলে যাবার কারণ ও কেউ জানে না,,,,,
আজ কিছুদিন ধরে ডেভিল অথবা রবিন কারোরই কোন দেখা পায়না দীপু। সেদিন রবিনের আসার পর থেকে এখনো কোনো রাতে ঘুম হয়নি "দীপুর"। তার মনে এখনো বেশ আতংক। রবিনের মৃত্যুর একমাত্র কারণ সে নিজে। তাই নিজ থেকে রবিনের কাছে ক্ষমা চাওয়াটাই এখন দীপুর শেষ ইচ্ছা।
তাই এখনো সে প্রতিটা রাতেই জেগে থাকে কখন রবিন আসবে আর তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে... আজ অনেক দিন হয়ে গেলো রবিন বা ডেভিল কেউই দীপুর কাছে আসেনা। আগের মতো ডেভিল ও দীপুর সাথে এখন কথা বলে না।
ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় এখন আর আগের মত আচরণ করেনা দীপু। এখন আগের থেকে বেশ স্বাভাবিক ভাবেই দীপুর প্রতিটা দিন কাটে। ক্লাশে আগের মত হাবা হয়ে বসে থাকেনা।স্যারদের সকলের সাথে এখন দীপুর বেশ ভাব। এখন সব শিক্ষকের প্রিয় ছাত্র "দীপু"।
নিজের জিবনের অনেক পরিবর্তন হলেও ভিতরে ভিতরে কিন্তু দীপুর মনে এখনো পুরনো দিনের কথা গেঁথে আছে। এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় দীপুর আসেপাশে "রবিন" ঘুরে বেড়ায় তার মৃত্যুর বদলা নেবার জন্য। তাই এখনো রাতে দীপু ঘুমায় না ভালো করে,,,,,,,
আজ কলেজে একটা নতুন ছেলে টি.সি নিয়ে ভর্তি হয়েছে। ছেলেটা দেখতে বেশ স্বাভাবিক। সবার সাথে কথা বলে কিন্তু দীপুর সাথে কথা বলেনা সে। কেনো কথা বলে না তার কারণ খুঁজতে যায় না কেউই..
লেখাপড়ায় খুবই ভালো ছেলেটা।এমনকি দীপুর থেকেও ভালো সে। ক্লাশে আগে দীপুই সব কিছুতে প্রথম ছিলো.... কিন্তু ছেলেটা আসার পর থেকে সেই এখন সবকিছুতে প্রথম থাকে... যার জন্য পরোক্ষ ভাবে হলেও তার উপর হিংসা হয় দীপুর...
সারারাত ধরে এক বারের জন্য হলেও বালিশে মাথা দেয়নি দীপু। তার মনে সব সময়ই এখন চিন্তা থাকে কে এই ছেলেটা? উড়েএসে জুড়ে বসে দীপুর জায়গা দখল করে নিচ্ছে আস্তে আস্তে,,,,
এমনিতেই অন্যের ভালো পারফরমেন্স কখনোই সহ্য হয়না দীপুর। সে যেই হোক তাকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে হয় তার,,, তবে এই ছেলেটাকে কেমন জানি অন্যরকম লাগে,,,,
পরেরদিন নিজ থেকেই ছেলেটির সাথে কথা বলে দীপু,,,,
- কি নাম তোমার?
-আমার নাম দিয়ে তুমি কি করবা?
- এভাবে কথা বলো কেনো?
- নাম বললে ভয় পাবে না তো??
-ভয়ের কি আছে নামই তো!! বলে ফেলো...
- আমার নাম "রবিন"।
নামটা শুনেই বেশ অবাক দীপু। ছেলেটার সাথে আর কথা বলা হয়না তার। বেশ অস্থির লাগছে এখন... ক্লাশ না করেই কলেজ থেকে বাসায় ফিরে আসে সে। পিছন থেকে ছেলেটা ডাকছে,,, কিন্তু সেদিকে কোন খেয়াল নেই দীপুর।
বাসায় এসে একটা ছোট নকশীকাথা গায়ে দিয়ে ঘুম ধরে দীপু। টেবিলে খাবার রেডি করে ডাকতেছে ছোট বোন... কিন্তু সেদিকে কোন খেয়াল নেই তার। ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও খাবার খেতে ইচ্ছে করছেনা তার। প্রচন্ড জ্বর উঠেছে দীপুর... জ্বরে এখন পুরোটাই অচেতন সে..
পরেরদিন ঘুম ভাঙে দীপুর। নিজেকে একটা হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করে সে,, পাশে ছোটবোন বসে আছে তার চোখের কোণায় জল ,,, দীপুর জেগে উঠার শব্দেই,,, "ভাইয়া" বলে কেঁদে উঠে সে,,,
দীপুর মাথায় তখনো চিনচিন ব্যথা করতেছে। ধীরেধীরে গত দিনের কথা গুলো মনে হতে থাকে তার,,, ছেলেটির নাম,,, "রবিন" ঠিক আছে,,, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর,, চাল-চলন সব কিছুই রবিনের মত.. আর সেটা দেখেই ভয় পায়,,, দীপু। যার জন্য আজ সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে সে,,,,,,
দীপুর মাথায় আবার সেই পুরনো দিনের মনোভাব টা জেগে উঠে। আবার তার মনে হয় যে,,, তার একটা ডেভিল বন্ধু চাই! হাসপাতালের বেডে থেকেই ডেভিল কে স্মরণ করতে থাকে সে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে ডেভিলের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। হাতের ইশারায় ছোট বোনকে বিদায় জানায় সে.... আবার সেই পুরনো রহস্যময় হাসি নিয়েই উপস্থিত হয় ডেভিল... দু জনের মধ্যে আলাপ শুরু হয়,,,,
- আমার একটা অন্তিম ইচ্ছে ছিল.. সেটা কি পুরণ করতে পারবে?
- হাহা!! অবশ্যই পারবো.. কি কাজ?
- কলেজে ভর্তি হওয়া নতুন ছেলেটার মৃত্যু চাই!!
- এর জন্য ,,, বিনিময়ে তোমাকে কিছু হারাতে হবে...
- কি হারাতে হবে?
- তোমার নিজের প্রাণ!!
নিজের প্রাণ!! শুনেই অবাক হয় দীপু। একদিকে অন্য কারোর ভালো পারফর্ম সহ্য হয়না তার, সেই ছেলেটাকে আটকানোর অন্য কোন রাস্তাও নেই...
তাছাড়া ছোটবোন ও বাঁচবেনা বেশিদিন। এ মাসেই তার মৃত্যু হবে হয়তো। কারণ তার ব্লাড-ক্যান্সার। ছোট বোন ছাড়া এই পৃথিবীতে "দীপু"র আর কেউই নেই,,,,
সুতরাং,, সেই ছেলেটিকে মারার জন্য নিজের প্রাণ দিতেও রাজি "দীপু"।
"দীপু" ডেভিলকে জানিয়ে দেয় যে,,, সে রাজি,, তবে মৃত্যুটা কালকের মধ্যেই হতে হবে,,,, ডেভিল ও দীপুর কথায় সহমত!!
পরের দিন কলেজ থেকে পিকনিকে যাওয়া হয়।পিকনিকের স্থান ছিল,,, পাহাড়ি এলাকায়।দীপু,,, রবিন কে নিয়ে সেখানের সব থেকে উঁচু পাহাড়ে উঠে,,,,
পাহাড়ের উপর থেকে নিচের দিকে থাকাতেও ভয় লাগে... পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে দুজনেই,,, এখান থেকে পড়লেই নিশ্চিত মৃত্যু!!
মনে মনে ডেভিলকে স্মরণ করতে থাকে "দীপু"। সেখানেই ডেভিলের উপস্থিতি টের পায় সে... বাতাসের মাঝে একটা শব্দ ভেসে আসে,,,, আর ইউ রেডি?
দীপুর,, মনে হয় এটা নিশ্চয় ডেভিলের আওয়াজ। "ইয়েস আই এম রেডি" বলেই রবিনকে টান দিয়ে তার হাত ধরে পাহাড় থেকে নিচে লাফ দেয়!!
"দীপু" অবাক হয়!! সে নিচের দিকে পড়লেও ছেলেটা নিচের দিকে পড়ছে না। হাওয়ার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা। তার মুখে মিটিমিটি হাসি.... ছেলেটা কিছু একটা বলছে হয়তো,,, কিন্তু দীপু শুনতেছেনা। হঠাৎ করেই ধপাস করে শব্দ হয়। দীপু নিচে পড়ে যায়,,, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কানে ভেসে আসে ছেলেটার বলা কথা গুলো,,,
"আমিই রবিন ছিলাম,, আমিই ডেভিল ছিলাম!"
সব ছাত্রছাত্রী যখন নিচে নেমে এসে,,, "দীপু"র কাছে আসে,,, ততক্ষণে "দীপু " লাশ হয়ে গেছে........
(সমাপ্ত)

#দ্যা_ডেভিল_ফ্রেন্ড

3d illustration of scary ghost woman screaming in hell,Horror background,mixed media


"দীপুর" অবস্থা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে।তার আচার আচরণেরও বেশ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইদানিং তার একা একা কথা বলার প্রবণতাও খুব বেড়েছে।তবে "দীপু" এখন আর কারো সাথে কথাও বলে না।
সে তার নিজের একটা আলাদা রাজ্য গড়ে তুলেছে। সেখানে তার নিজের আদেশ নিষেধ চলে। অন্য কারোর কথা শোনার প্রয়াস নেই। তার যা ইচ্ছা তাই করে। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছার তোয়াক্কা করে না সে।
"দীপু" তার বন্ধুর জন্য একটা সুন্দর নাম খুঁজতে থাকে। তার এই অদৃশ্য বন্ধুর জন্য একটা সুন্দর নাম প্রয়োজন। কিন্তু কি নাম দেয়া যায়?? দীপু মাঝে মাঝে চিন্তা করে আমার নাম তো "দীপু" আর ওর নামও "দীপু" ই হবে।
কাল্পনিক বন্ধুর সাথে কথা বলে "দীপু" তার বন্ধুর নাম দেয় "দীপু"। কিন্তু তার বন্ধুর এই নাম পছন্দ হয়নি। কাল্পনিক বন্ধুটি দীপুর দেওয়া নামের আগে "ডেভিল" যোগ করে তার পুরো নাম দেয় " ডেভিল দীপু"।
"ডেভিল"!!! শব্দটা শুনেই "দীপু" এই প্রথম বারের মত তার কাল্পনিক বন্ধুকে ভয় পায়। এই শব্দটা শুনেই তার মধ্যে অন্যররকম অনুভূতির প্রকাশ পায়। আচ্ছা তার এই বন্ধু হঠাৎ ডেভিল হবার চিন্তা করে কেনো???
কিছুদিন হলো দীপুর সেই কাল্পনিক বন্ধুর সাথে তার তেমন কথা হয়না। কয়েকদিন ধরে তার এই বন্ধু কাজের বিনিময় চাইতে শুরু করেছে । যদি "ডেভিল দীপু" কোন কাজ করে দেয় তবে "দীপুকে" কোন কিছু হারাতে হয়।
কয়েকদিন আগে যখন সেই প্রতিবন্ধী বন্ধুটা ভালো পারফর্ম করেছিল তখন "দীপু" কে তার প্রিয় "ময়না"পাখিটা হারাতে হয়েছিল। কারণ তার কাল্পনিক বন্ধু রক্তের স্বাদ নিতে চেয়েছিল........ সবসময়ই তাকে কিছু পাবার জন্য কিছু হারাতে হতো....
এবার "দীপু" তার সব ইচ্ছা পূরণ করার আবদার করেছিল তার কাল্পনিক বন্ধুর কাছে। তবে তার কাল্পনিক বন্ধু এর জন্য বিনিময় চেয়ে বসে .... যদি "দীপু" যা ইচ্ছা তা করতে চায় তবে তাকে তার সব থেকে প্রিয় মানুষটিকে হারাতে হবে .. এমনটাই বলেছিল....
সবথেকে প্রিয় মানুষ!!! শুনেই অবাক হয় "দীপু"। তার সব থেকে প্রিয় বলতেই তো "অহনা "। তার মানে যদি সে তার সব ইচ্ছা পূরণ করতে চায় তবে তাকে "অহনা"কে হারাতে হবে। সেই ভয়েই "দীপু" তার কাল্পনিক বন্ধু "ডেভিল দীপুর" সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।
কিছুদিন ধরে "দীপুকে" রাস্তায় একা একা দেখা যায় না। তার সেই কাল্পনিক বন্ধুর সাথে কথা বলাও হয়না। দীপু শুধু এটাই জানে যে সে যেকোন কিছু করতে পারবে কিন্তু তার "অহনা"কে হারাতে পারবে না।যার জন্য এখন আর তেমন কথা বলা হয়না বন্ধুর সাথে।
এলাকার সবাই বেশ অবাক! হঠাৎ করে "দীপু"র এই পরিবর্তন কেনো??? কেউ কোন উত্তর খুঁজে পায়না । রাস্তায় এখন আর "দীপুকে" একা একা কথা বলতে দেখা যায় না। তার এখন দুএকটা বন্ধুও জুটে গেছে।
এখন তার সব থেকে কাছের বন্ধু হচ্ছে "রবিন "। যখন "দীপু"র কাছে অদৃশ্য শক্তি অর্থাৎ তার কাল্পনিক বন্ধু ছিল তখনই "দীপু" অনেক বন্ধু খুঁজে পেয়েছিল। তাদের মধ্যে রবিন একজন। এখন "দীপু" আগের মত স্বাভাবিক ও হাবার মতোন হয়ে গেছে.... সব বন্ধুই তাকে ছেড়ে গেলেও রবিন তাকে ছেড়ে যায় নি।
"দীপু" আর "রবিন" এখন বেশ ভালো বন্ধু । একজন কে ছাড়া অন্যজনের চলেনা। "দীপু"ও এখন আর তার ডেভিল বন্ধুর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তবে তার ডেভিল বন্ধুটি এখনো তার আশে পাশে থাকে এবং যেকোন বিপদে তাকে সাহায্য করে....খুব বেশি বিপদে পড়লে "দীপু"কে তার কাছ থেকে সাহায্য নেবার আহবান করে সে.....
তবে "রবিন"কে খুব কাছে পাওয়ায় "দীপু" এখন তার ডেভিল বন্ধুকে সময় দেয়না। তাছাড়া তেমন কথাও বলেনা তার সাথে। "দীপু" স্বাভাবিক হয়ে যাবার জন্য তার অবস্থা এখন আগের মতোন হয়ে গেছে। আগের মতই সবাই তাকে এখন অবহেলা করে,,, কেউ তাকে তেমন গূরুত্ব দেয়না এখন।
"দীপু" এখন প্রচুর মানসিক চাপে আছে। আগের মত জীবনটা এখন কেমন জানি অদ্ভুত লাগে। মাঝে মধ্যে মনে হয় সে তার ডেভিল বন্ধুর সাথে কথা না বলে ভুল করতেছে... কিন্তু তবুও রবিন কাছে থাকায় ডেভিল দীপুর সাথে কথা বলার ইচ্ছা হয়না তার....
কিছুদিন ধরে "দীপু"র ছোটবোন খুব অসুস্থ! অনেক ডাক্তার দেখানো হচ্ছে তবুও সে সুস্থ হচ্ছেনা। একেবারে মৃতপ্রায় অবস্থা তার। খুব ভালো চিকিৎসা না করতে তাকে বাঁচানো হয়ত যাবেনা। এর জন্য অনেক ভালো ভালো ডাক্তার দেখানো হচ্ছে তবুও সে সুস্থ হচ্ছেনা ।
"দীপু" হঠাৎ করে কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা। তার কি করা উচিত সেটাও ভেবে পাচ্ছেনা। তবে এখন কেমন জানি তার "ডেভিল দীপু"র কথা মনে হচ্ছে। ডেভিলকে স্মরণ করতেই সে দীপুর সামনে এসেই উপস্থিত হয়ে যায়।
তবে তার সেই আগের শর্ত কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হবে..!! "ডেভিলের" এই শর্তে "দীপু" নারাজ। যদি ডেভিল তার বন্ধুই হয় তবে শর্ত চায় কেনো?
তবে এবার হাবা "দীপু" খুব চালাক মনে করতে শুরু করেছে। সে তার ডেভিল বন্ধুকে নিজ থেকে আরেকটা শর্ত দিয়ে বসে। সে ডেভিলকে বলে দেয় যে,,,
"তার বোন পুরোপুরি সুস্থ হবে কিন্তু এর বিনিময়ে ডেভিল "অহনা"র আত্মা চাইবে না।" দীপুর শর্তে ডেভিল নিজ থেকেই রাজি হয়ে যায়।
তবে এবারো সে জিবনের বিনিময়ে জীবন চেয়ে বসে। যদি "দীপু" তার বোনকে সুস্থ হিসেবে পেতে চায় তবে তাকে তার বন্ধু
"রবিন" কে হারাতে হবে।
ডেভিলের এমন শর্তে "দীপু" চমকে উঠে। এখন তো "রবিন"ই তার সবথেকে কাছের বন্ধু। তবে কি বোন কে সুস্থ করতে হলে বন্ধুকে হারাতে হবে........!
(চলবে)

ঘটনাটি আমার কাকার মুখ থেকে শোনা।

Frightened young woman looking to the mirror and seeing in reflection a ghost girl

ঘটনাটি আমার কাকার মুখ থেকে শোনা। আমার কাকার গ্রামের বাজারে একটা মুদি দোকান আছে। সেখানে হাটের দিন অনেক রাত পর্যন্ত বেচা কেনা হয়। কাকা মাঝে মাঝে আসতে আসতে নাকি রাত ১-২ টাও বেজে যেত। কাকার দোকানে সেলিম নামের এক কর্মচারী কাজ করতো। সে কথা বলতে …পারতো না। মানে, বোবা ছিল। কাকা তাকে খুবই আদর যত্ন করতো। সেলিমের তিনকুলে কেউ নেই। সে তার দুঃসম্পর্কের এক মামার বাড়িতে থাকতো। সেই লোক মারা যাওয়ার পর না খেয়ে ছিল। কাকার দয়া হয়। নিজের দোকানে তাকে কাজ দেন।
সেলিম আমার দাদু বাড়িতেই থাকতো। কাকার সাথেই রাতে বাজার থেকে ফিরত। কাকা প্রায়ই বলতেন, সেলিম ছেলেটাকে দেখে উনার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। উনি নাকি অনেকদিনই শুনেছেন গভীর রাতে সেলিমের ঘর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ পাওয়া যায়(এমনকি কাকিমা নিজেও শুনেছেন)। কিন্তু সেলিম নিজে বোবা। তার কথা বলার প্রশ্নই আসে না।
একরাতে কাকা অনেক দেরি করে বাসায় ফিরছিলেন। সেদিন হাটবার ছিল তাই বাজারে লোকজনও ছিল বেশি। তাই দোকান বন্ধ করতে করতে সময়ও লাগে বেশি। কাকা বাড়ির পথ ধরেন রাত ১টার কিছু পরে। সাথে সেলিম। আগামীকাল বাসায় মেহমান আসার কথা তাই কাকা হাত থেকে বড়সড় ৪টা মুরগি কিনে রেখেছিলেন। সেলিমের হাতে মুরগিগুলো। কাকার হাতে পান-সুপারি।
চাঁদের আলোয় চারপাশ ভালোই ঝলমল করছিলো। কাকা আনমনেই সেলিমের সাথে কথা বলছিলেন। দোকানে আজ কেমন বেচাকেনা হল সে সব নিয়ে। সেলিম মাথা নিচু করে শুনছে আর পাশাপাশি হাঁটছে। বাজার থেকে প্রায় ২০০-৩০০ হাত আসার পর রাস্তাটা বামে মোড় নিয়েছে অনেকটুকু। কাকা কথা বলতে বলতে আনমনেই এগুচ্ছিলেন, হটাত দেখতে পেলেন সামনে গাছের আড়ালে কি যেনও নড়ে উঠলো।
এখানে বলে রাখা দরকার, আকাশে বিরাট চাঁদ ছিল, এবং এমনকি রাস্তার সাদাবালিগুলোতে চাঁদের আলো পরে চিকচিক করছিলো। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল চারপাশ। কাকা পাত্তা না দিয়ে এগুতে লাগলেন। কিন্তু সেলিম থমকে দাঁড়ালো। চোখ মুখ কুঁচকে কি যেনও দেখার চেষ্টা করলো। নাক দিয়ে ছোক ছোক করে কিসের যেনও গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করলো। কাকা সেলিমের মধ্যে এমন ভাব আগে দেখেননি কখনো। তিনি একটু বিরক্ত হলেন। তাড়া লাগালেন জলদি যাওয়ার জন্য। কাকা পা বাড়ালেও সেলিম দাঁড়িয়ে রইলো। কাকা আবার পিছনে ঘুরে তাড়া লাগালে সে দৌড়ে এসে কাকার হাত ধরে জোর করে টেনে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। কাকা বিরক্ত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলেন। কিন্তু সেলিমের গায়ে যেনও অসুরের শক্তি। সে কাকাকে প্রায় টেনে নিয়ে চলতে লাগলো বাজারের দিকে। এইবার কাকা স্পষ্ট শুনলেন পেছন থেকে কে যেনও উনার এবং সেলিমের নাম ধরে জোরে চিৎকার করলো। আওয়াজটা তিনবার শোনা গেলো। অপার্থিব সেই আওয়াজ যেনও কাকার কানটা তালা লাগিয়ে দিলো। বিমুরের মতো চেয়ে রইলেন রাস্তার দিকে। কিভাবে যেনও উনার মনে এই শব্দগুলো আঘাত করলো। এ কোনও মানুষের আওয়াজ হতে পারে না। হতে পারে না কোনও পশুর আওয়াজ। তাহলে? তাহলে, যা তিনি জীবনে বিশ্বাস করেননি, তাই কি হতে যাচ্ছে? এ কি ভূত প্রেত কিছুর পাল্লায় পড়লেন তিনি।
এদিকে সেলিম প্রায় বগলদাবা করে উনাকে দৌড়ে নিয়ে যেতে লাগলো বাজারের দিকে। সেলিমের হাত থেকে মুরগিগুলো পড়ে গিয়েছিলো। কাকা শেষবার যখন একবার পিছনে ফিরলেন তখন দেখলেন সেই মুরগিগুলো যেনও অদৃশ্য কোনও হাতের ছোঁওয়ায় সেই মোড়ের দিকে যেতে লাগলো।
সেইরাত কাকারা বাজারেই কাটিয়ে দিলেন। সকালে ফেরার পথে আরো কিছু লোক নিয়ে উনারা দেখতে চললেন মোড়ের সেখানে আসলে কি হয়েছে। উনারা যেই মোড়টার কাছাকাছি পৌঁছলেন তখন দেখলেন সেখানে রাস্তার উপর একটা বর্গের মতো আকৃতি বানিয়ে ৪টা মুরগির মাথা সাজানো। আর কিছুটা দূরে সেই মাথা ছাড়া দেহগুলো পড়ে আছে।
এই ঘটনা কাকার সাথে উপস্থিত বাকি সবাইও দেখে। বাসায় ফেরার পর কাকা এবং সেলিম দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেলিমের প্রায় ১৫ দিন জ্বর থাকে।

অতৃপ্ত প্রেমিকার আত্মা



সমুদ্রের ধারে বিশাল এক পাহাড় ! একজন মেয়ে গভীর রাতে চুপিচুপি এসে হাজির হয় সেই পাহাড়ের ধারে । ধাপে ধাপে সজ্জিত পাথরে পা ফেলে ফেলে মেয়ে উঠতে থাকে পাহাড় চূড়ায় । প্রয়োজন মতো ছোট-বড় লাফ দিয়ে, বহু কষ্টে সে পৌঁছে যায় তার গন্তব্যে । তারপর চওড়া পাথরটার ওপরে বসে অপলক চেয়ে থাকে চাঁদের পানে। পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে আজ আকাশে, চারিদিক ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয় ! সাহসী পুরুষ তন্ময় দূর থেকে চাদের আলোতে সে অবাক হল । হাত ঘড়িটার দিকে চেয়ে দেখে রাত একটা । পিস্তলটা দেখে নিল গুলি ঠিক আছে কিনা । রাতের বেলায় কালো পোশাক পরে আস্তে আস্তে পাহারে উঠতে লাগলো ।
ধাপে ধাপে সজ্জিত পাথরে পা ফেলে ফেলে ঠিক মেয়েটার পিছনে দাঁড়ালো । কোন শব্দ করেছে না । মেয়েটির চুল গুলো খুব সুন্দর । পায়ে নুপুর । হাতে অনেক চুরি ও মেহেদি পরা । শাড়ি টা তাঁকে দারুন মানিয়েছে । ভাল করে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখল । সমুদ্র থেকে বাতাস ভেসে আসছে সাথে শো শো শব্দ ।
মেয়েটি পিছন না ফিরে বলল,
--- কতক্ষণ দারিয়ে থাকবেন । এই পাহারে উঠা খুব কঠিন । যারা কষ্ট করে উঠে তারাই দেখতে পারে রাতের সমুদ্র কে ।
--- কি আছে রাতের সমুদ্রে । আর আপনি একটা মেয়ে মানুষ এখন রাত কত জানেন ।
--- দেখুন আমি তো আপনাকে এখানে আসতে বলি নাই । মেয়ে মানুষ বলে কি আমি মানুষ না । আমার ইচ্ছা নাই । আপনি ছেলে বলে যা খুশি করবেন! তাই সমাজ মেনে নিবে,
--- না !আমি তা মিন করে বলি নাই ।
--- দেখুন এই পাহারে রাতে কেউ আসে না।
--- আপনি আসলেন যে ।
--- মেয়েটি একটু হাসি দিয়ে বলল - আমি তো এই পাহারর মেয়ে । ঐ যে দূর গ্রামে আলো জলছে ঐ গ্রামে আমার বাড়ি।
--- কি নাম আপনার
--- মেয়েটা এবার হাসি দিয়ে বলল , আমার নাম লতা।
--- লতা এত রাতে এখানে থাকা ঠিক না । তা ছাড়া আপনার গ্রাম তো অনেক দূর ।
--- না তেমন কোন দূর না । এই পাহারের ঢাল দিয়ে হেটে গেলে একদম কাছেই । তা আপনার নাম কি?
--- আমার নাম তন্ময় ।
--- তন্ময় বাবু । আপনি দেখতে অনেক সুন্দর ।আড় চোখে দেখল তন্ময় কে
--- তন্ময় অবাক হল ! এত সুন্দর একটা মেয়ে । কত কোমল লাবন্য মায়াবী চেহারা । চাঁদের আলো হেরে যায় সত্যি নারীর রুপে । মেয়েটি হাসতে লাগলো । তন্ময় বাবু । আজ পূর্ণিমা । এই পাহাড় দিয়ে হেটে গেলে বড় রাস্তা । ঐ দিক থেকে আসবে আমাকে নিতে,
--- কে নিতে আসবে ?
--- আমি যার জন্য অপেক্ষা করছি ।
--- তুমি কাউকে ভালবাস ?
--- হা বাবু । আমি তোমার মত এক পরদেশি কে ভাল বাসি ।
--- কি নাম তার
--- আকাশ ।
--- কোথায় থাকে ও
--- ও তো বলে ওর বাড়ি সিলেট এ । আজ আমাকে নিতে আসবে । যখন দেখবে সমুদ্রের এই সোনালি পানি জোয়ারে এই পাহারের কাছে চলে আসছে ও তখনি আসবে।
--- বাহ দারুন তো ।
---- জোয়ার আসলে আমাদের গ্রামের মানুষ আর এই দিকে আসতে পারবে না। ঠিক যখন চাঁদটা ডুবে যাবে একটু অন্ধকার হবে । তখন চলে আসবে আমাকে নিতে । দেখুন চাঁদ ডুবতে আর কয়েক মিনিট লাগবে । আমার আকাশ চলে আসবে ।
--- আপনি কি আকাশের বাড়ির ঠিকানা জানেন।
---- হা জানি তো । সিলেট লিচু বাগান । ১১ নম্বর বাড়ি । আমাকে ও মুখস্ত করে রেখেছে ।
তন্ময় খুব অবাক হল । সত্যি চাঁদের সাথে সুধু আকাশের ঠিকানা হয় । অন্ধকার হয়ে আসছে দেখে ।তন্ময় লতার কাছ বিদায় নিয়ে পাহারের পথ ধরে হাঁটতে লাগলো ।লতা কন্না করছে আকাশ তুমি কোথায় । আমি তোমার রেখে জাওয়া জায়গায় দারিয়ে আছি । এখন লতা চিৎকার করছে আকাশ , আকাশ । তন্ময় চিৎকার শুনে আবার পিছনে ফিরল । জোয়ারে পাহার পর্যন্ত পানি চলে আসছে । অনেক বড় বড় ঢেউ পাহারে আঘাত করছে যেন পাহার ভেঙ্গে ফেলবে । একেবারে চাঁদ ডুবে গেল । কোথাও জোছনার আলো নেই । তন্ময় চিৎকার করে বলছে লতা আপনি কোথায় ।
লতা আকাশ আকাশ তুমি চাঁদ ডুবে যাওয়ার আগে আসলে না। আমি আর বাড়ি ফিরে যেতে পারব না। আমি পূর্ণিমার নিয়ম ভেঙ্গে ছি । আমার যাত নষ্ট করেছি । তুমি এলে না বলে ঐ বিশাল পাহার থেকে সাগরে লাফ দেয় লতা । তন্ময় ও লাফ দিতে নেয় । এমন সময় পিছন থেকে তার হোটেলের ছেলেরা ধরে ফেলে । তন্ময় বলতে থাকে মেয়েটা মারা যাবে । মাকে ছেরে দাও । হোটেলের ম্যানেজার ধমক দিয়ে বলে
থামুন । কোথায় এখানে সাগর । ভাল করে দেখুন । আপনি চাঁদের আলোতে ভুল দেখছেন । সাগর তো অনেক দূরে । তন্ময়ের হুস আসে চেয়ে দেখে । মাথার উপর চাঁদ । সাগর অনেক দূরে । হোটেলের ম্যানেজার বলে । ইস আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করেছে । আমি আপনার রুম খুলা দেখে অবাক হই । কোথাও আপনাকে দেখা যায় না। তার পর নাইট ভিসন দূরবীণ দিয়ে দেখি আপনি পাহারের উপরে । আমারা আসতে আসতে দেখি আপনি লতা বলে চিৎকার করছেন ।
--- দেখুন ম্যানেজার সাহেব একটা মেয়ে এই পাহার থেকে লাফ দিয়েছে ।
--- হা আপনার মত গত ১২ বছরে ৯ জন ঐ মেয়েকে বাচাতে মারা গেছে ।
--- আসলে ঐ মেয়েটা একটা ভুত । কেউ এর রহস্য বের করতে পারে নাই ।
তন্ময় খুব অবাক হল । লাফ দিলে সে বাঁচত না । নিচে শুধু পাথর ।
তন্ময় খুব অবাক হল । তিন দিন পরে সে সিলেট চলে আসলো । লিচু বাগান ১১ নম্বর বাড়িতে গেল জানতে আকাশ নামে কেউ আছে কিনা । জানতে পারলো আকাশ আছে । তবে পাগল । জানতে পারলো লতার লাশ দেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাগল ....

আজও শোনা যায় সাত কন্যার অতৃপ্ত আত্মার তীব্র চিৎকার!

Zombie hand through Soil cracked in Magic land and blurred tree die background.Halloween theme


আজও শোনা যায় সাত কন্যার অতৃপ্ত আত্মার তীব্র চিৎকার!

জাগরণীয়া ডেস্ক
কেল্লার দরজায় সাতটি কন্যার ছবি, তাদের চোখ দেখলেই ভয় পায় এলাকাবাসী৷ গভীর রাতে শোনা যায় অত্যাচারের তীব্র চিৎকার৷ গোটা দেশ যখন অক্ষয় তৃতীয়ার উৎসবে মেতে উঠে ঠিক তখন কেল্লার লাগোয়া গ্রামে অশুভ দিন পালিত হয়৷ সবমিলে রোমাঞ্চ আর ইতিহাসে ঠাসা এক অদ্ভুত কেল্লা,যার সঙ্গে জড়িয়ে ছমছমে গল্প৷
উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার তালবেহট গ্রামের কেল্লার গল্প অন্তত ১৫০ বছরের পুরনো৷
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সবাই দিনের বেলাতেই কেল্লায় যেতে ভয় পান৷ চট করে কেউ সেখানে যায় না৷ ১৫০ বছর আগে একটা ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছিল ললিতপুর কেল্লায়৷ তারপর থেকে এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে ভয়৷
কেল্লার মূল ফটকে আঁকা সাত কন্যার ছবি এই ভয়ের কারণ৷ কেনও এমন ভয়?
জানা যায়, ১৮৫০ সালের ঘটনা৷ ললিতপুর সংলগ্ন বাতপুরের জমিদার ছিলেন মর্দন সিং৷ জমিদারির কাজে আসা যাওয়ার সময় স্থানীয় তালবেহট গ্রামের কাছে একটি কেল্লা বানিয়েছিলেন৷ ১৮৫৭ সালে দেশজুড়ে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ (ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম) ছড়িয়ে পড়ে৷ সেই বিদ্রোহে অংশ নেন জমিদার মর্দন সিং৷ তিনি সরাসরি ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাইয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই শুরু করেন৷ কুশলী যোদ্ধা ছিলেন মর্দন সিং৷ এলাকায় এখনও তাঁর নাম সম্মানের সঙ্গেই নেওয়া হয়৷ মর্দন সিং সম্মান পেলেও তাঁর পিতা প্রহ্লাদ সিংয়ের নাম শুনলে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেন এলাকাবাসী৷
শোনা যায়, বিদ্রোহের মাঝে এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে ললিতপুরের মহিলারা রীতি মেনে জমিদার বাড়িতে দাণ গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন৷ সেই দলে ছিল তালবেহট গ্রামের সাত কন্যা৷ তাদের রূপ দেখে কেল্লায় একলা থাকা প্রহ্লাদ সিংয়ের মাথা ঘুরে যায়৷ সেপাই পাঠিয়ে সাত কন্যাকে বন্দি করে৷ তারপর তাদের ধর্ষণ করে বৃদ্ধ প্রহ্লাদ সিং৷ লজ্জায় ওই সাত কন্যা কেল্লার ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিল৷ তালবেহট গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হাহাকার৷ পরে সব জানতে পারেন জমিদার মর্দন সিং৷ পিতার কুকর্মে রীতিমতো মুষড়ে পড়েন রানি লক্ষ্মীবাইয়ের সহযোগী৷ মর্দন সিংয়ের নির্দেশে এক চিত্রকর কেল্লার মূল ফটকের উপর ধর্ষিতা সাত কন্যার ছবি এঁকে দিয়েছিলেন৷ সেই ছবি এখনও রয়েছে৷ তবে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি আর পালন করেন না ললিতপুরের তালবেহট গ্রামের বাসিন্দারা৷ এই দিনটি তাঁদের কাছে অশুভ৷
ধর্ষণের শিকার ওই সাত কন্যার অতৃপ্ত আত্মার চিৎকার এখনও কেল্লার ভেতরে প্রায়ই শোনা যায়৷ জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷ এমনি করেই দেড়শ বছর পার হয়ে গিয়েছে৷ যোদ্ধা জমিদার মর্দন সিংয়ের কেল্লা ক্রমে ভৌতিক বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে৷ দিনে হোক বা রাতে চট করে কেউ সেখানে যেতে চান না৷ কেল্লার মূল ফটকে আঁকা সেই সাত কন্যার চোখ যেন সর্বক্ষণ প্রতিশোধের জন্য মুখিয়ে রয়েছে৷

পরীর সাথে প্রেম


পর্ব:৬ষ্ঠ।Zombie hand coming out of his grave
.
Writer:Abir mahdud khan
{অদৃশ্য ক্যানভাসে কাঠপেন্সিল লেখক}
"""""""""""""""""""'"'"'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
''''''
তাকিয়ে দেখলাম আখিঁ রাগে ফুলছে।
আমার একেবারে কাছে এসে শার্টের কলার ধরে-
/
আখিঁ:-ঐই তুমি আমার লিপস্টিক খাও ভালো কথা। সুপ্তির লিপস্টিক খাইলা কেন।«১১০ভোল্টেজ রাগ দেখিয়ে»
/
আমি:-সত্যি বিশ্বাস করো জান।
আমি ভাবছি তুমিই সুপ্তি।«হায় হায় এটা কি বললাম»
/
আখিঁ:-কি তারমানে তুমি আগে থেকেই সুপ্তির লিপস্টিক খাইতে চাইছিলা।
আপনি আর কোনদিন বাগানে যাবেন না।
হায় হায় তুমি থেকে একেবারে আপনি তে চলে এসেছে।
প্যারা আর প্যারা আবীর তোর জীবনটাই শুধু প্যারা দিয়ে ভর্তি।
আর এদিকে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি মিটিমিটি হাসছে।
/
আমি:-সরি আমি এটা বলতে চাইনি।
আমি বলতে চাইছিলাম সুপ্তিকে তুমি ভেবে লিপস্টিক খেয়ে ফেলছি।
/
আখিঁ:-মিথ্যা কথা।
তুমি সুপ্তির লিপস্টিক জেনে শুনেই খাইছো।
/
আমি:-সত্যি বিশ্বাস করো আমি.......!
কথাটা শেষ করার আগেই দেখলাম আখিঁ ও সুপ্তি অদৃশ্য হয়ে গেল।
.
হুর!
আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
শুয়ে শুয়ে কি যেন একটা ভাবছিলাম।
এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল। এখন আবার কে এলো দরজা খুলে দেখলাম দিপু চাচা এসেছে।
/
চাচা:-ভাতিজা এখন বাড়িতে চলে যাও।
তোমার আম্মু তোমাকে না পেয়ে অনেক খুজেছেঁ।
আমি কিছু না বলেই বাসার দিকে হাটাঁ শুরু করলাম।
বাসায় কলিংবেল চাপতেই আম্মু দরজা খুলে দিয়ে জিঙ্খেস করলো-
/
আম্মু:-কিরে এতক্ষন কোথায় ছিলি?
আর সকালে এই ভাবে দৌড় দিয়েছিলি কেন।
/
আমি:-বারে রে তুমিই তো সকালে ঝাড়ু নিয়ে আমাকে মারতে আসছিলে।তাই গুম থেকে ওঠেই দৌড় দিয়েছিলাম।
/
আম্মু:-হায়রে বোকা আমিতো সকালে বিড়াল তাড়াতে ঝাটা হাতে তোর রুমে গিয়েছিলাম।«হাসত
ে হাসতে»
এ এটা কি হলো।
আম্মু তাহলে আমাকে মারতে ঝাটা নিয়ে আমার রুমে যাইনি।
শুধু শুধু কষ্ট ভোগ করলাম।
যাইহোক এর জন্যই তো আখিঁর লিপস্টিক খাওয়া হলো।
.
রুমে এসে একটু রেস্ট নিলাম।
তারপর গোসল করতে গেলাম।
গোসল শেষ করে যখন গেন্জি পড়বো তখনই আখিরঁ একটা কথা মনে পড়ে গেল।
আখিঁ বলেছিল আমাকে নাকি সবসময় দেখে।তাহলে কি এখনো আমাকে দেখছে।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম আখিঁ আছে কি না। না নেই-
মনের সুখে গেন্জি পড়ছিলাম এমন সময় সামনে তাকিয়ে দেখি আখিঁ দাড়িয়ে আছে।
তাও আবার আমার লুঙ্গি হাতে নিয়ে।
হায় হায় এখন কি করবো। ও কি এখন আমাকে লুঙ্গি পড়িয়ে দিবে নাকি।
আমার মান ইজ্জত সব শেষ।
আরে ভাই আপনাদের একটা লুঙ্গি থাকলে দেন না প্লিজ
আখিঁর হাত থেকে রক্ষা পেলেই দিয়ে দেব।
না আখিঁকে একটু পাম দিয়ে দেখি কাজ হয় কিনা।
/
আমি:-আমার মিষ্টি পরী।আমার জান,আমার কলিজা,আমার মন।
আমার লুঙ্গিটা দিয়ে দাওনা প্লিজ।«পাম দিলাম আরকি»
/
আখিঁ:-ওগো আমার জানু,পরানু,আমার কলিজা«পামটা কাজে দিসে মনে হয়» তোমাকে আমি লুঙ্গি দিচ্ছি না।
আমাকে যতই পাম দেও না কেন লুঙ্গি আমি তোমাকে দেব না।
/
হায় হায় কয় কি তাহলে তো এইভাবে ভিজা শরীর নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে আমি ওপরে চলে যাবো।
/
আমি:-দেখ আমি কিন্তু তোমাকে..........!....
/
আখিঁ:-আমাকে কি হু?
বেশি কথা বললে না লুঙ্গি নিয়ে চলে যাবো।
সুপ্তির লিপস্টিক খাওয়া না বার করছি আজকে।
/
হায় আল্লা কেন যে সেদিন রাতে লিপস্টিক খেতে গেলাম।
এবার এর ট্যালা সামলাও আবীর ভায়া।
/
আমি:-ভুল হয়ে গেছে আর লিপস্টিক খাবো না কোনদিন।«মন খারাপ করে»
/
আখি:-ওলে বাবা লে।
তবে ক্ষমা করতে পারি একটা শর্তে।«বিজয়ের হাসি»
/
আমি:-কি শর্ত।«অবাক হয়ে»
/
আখি:-আজকে রাতে তুমি বাগানে যাবে লাল পান্জাবীটা পরে।
/
আমি:-এ আর এমন কি কঠিন কাজ।
ঠিক আছে যাবো।
/
আখিঁ:-শর্ত এখনো শেষ হয়নি!
তুমি আজকের পর থেকে কোন মেয়ের দিকে থাকাবে না এমনকি ফেইসবুকে কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে পারবে না।
/ হায় হায় এটা কেমন শর্ত।আচ্ছা বলেন তো আপু আপনাদের সাথে কথা
না বলে কি থাকতে পারবো।
এখন মিথ্যা কথা বলে বাচতেঁ হবে।
/
আমি:- আচ্ছা ঠিক আছে।«মিথ্যা বললাম»
/
আখিঁ:- এই নাও।
বলেই লুঙ্গিটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।
তাড়াতাড়ি লুঙ্গিটা ওর হাত থেকে নিলাম।
/
আমি:- আমি না লুঙ্গি পড়তে পাড়িনা তুমি একটু পড়িয়ে দাও না।«এই রে মুখ ফসকে এটা কি বলে ফেললাম»
আখিঁর দিকে তাকিয়ে দেখি বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-সরি এটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।
বলেই আখির দিকে তাকালাম কিন্তু একি আখিঁ কোথায় গেল।
-কিরে তোর গোসল এখনি হয়নি।
এই রে আমি যে গোসল করছিলাম মনেই ছিল না। -এইতো শেষ।আসছি আম্মু।
.
গোসল শেষ করে বিকালে একটু বাহিরে বের হলাম।তারপর বাসায় ফিরলাম রাতে।
রাতের খাবার খেয়ে লাল পান্জাবীটা পড়লাম।
তারপর বাগানে যাবার জন্য বের হচ্ছি হঠাৎ করেই রুজি কোথায় থেকে আসলো।
আমাকে দেখে অনেকটা অবাক হলো কারন আমি শুক্রবার ছাড়া কখনো পান্জাবী পড়ি না।
আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো-
/
রুজি:-ভাইয়া তুমিতো শুক্রবার ছাড়া পান্জাবী পড় না।
ব্যাপার কি। আজ হঠাৎ করেই পান্জাবী পড়লা যে।
খাইছে আমারে এখন আবার কেন যে ও আমার রুমে আসল বুঝতে পারছি না।
/
আমি:-পান্জাবীটা ছোট হয়ে যাচ্ছে তো তাই একটু পড়ে দেখছি ছোট হয়ে গেছে কিনা«ডাহা মিথ্যা কথা»
/
রুজি:-ওমা তাই নাকি।
তাই বলে এত রাতে!«অবাক হয়ে»
/
আমি:- হু তাতে তোর কি যা বের হ।
বলেই অনেকটা জোর করে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দিলাম।
শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম পরীটার কথা। আহা কি সুন্দর তার চোখ দুটো,কি সুন্দর তার হাসি,আর সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে তার গালের তিলটা।
এসব ভাবতে ভাবতে ঘরিটার দিকে তাকালাম। এই রে খাইছে আমারে ১২টা বেজে গেছে।
তার পরও আমার কোন খবর নাই।
আজকে লিপস্টিকের পরিবর্তে মনে হয় কপালে অন্য কিছু জুটবে।
যাইহোক গিয়ে দেখি কি আছে কপালে।
পিছনের দরজা দিয়ে বাগানে গেলাম ।
গিয়ে বড় ধরনের একটা শর্ট খেলাম বাগানের পরীটাকে আজকে অন্যরকম লাগছে।
.
পরীটা আজ একটা নীল জামা পড়ে এসেছে।
আমি চোখঁ ফেরাতে পারছিলাম না।
দূর থেকে অনেকক্ষন তাকিয়ে দেখলাম।
না কাছে গিয়ে দেখি আজকেও লিপস্টিক খেতে পারি কিনা হি হি।
আস্তে আস্তে পরীটার কাছে গেলাম পরীটা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
তাই পেছন থেকে ঝরিয়ে ধরলাম।
পরীটা আমাকে ছাড়াতে চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।
অনেকক্ষন চেষ্টার পর হঠাৎ করেই ঠাস..........!
কিছু বুঝলেন পরীটা আমাকে চড় মেরেছে।
আমি কল্পনাও করিনি যে পরীটা আমাকে চড় মারবে।
ঠিকি তো আমি কে।
আমি মানব সন্তান ভুলেই গিয়েছিলাম।
.
আর ও হলো একটা পরী।
হয়তো আমাকে ওর পছন্দ না,আমার থেকে অনেক ভালো কোন ছেলের সাথে রিলেশন করতে পারবে ও।চিৎকার দিয়ে কাদতেঁ ইচ্ছে করছে।
চোখেঁ ফেটে জল বের হয়ে আসতে চাইছে।
দেখলাম পান্জাবীটা ভিজে গেছে।
আরে আমি কাদছিঁ কেন তাহলে কি আমি ওকে সত্যি সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি।
না আর থাকা যাবে না পরীটার সামনে।
কোন অধিকারে আমি পরীটার সামনে দাড়িঁয়ে আছি।
তাই চলে আসতে লাগলাম। কিন্তু হাঁটতে পারছি না কেন।
আমার মনে হচ্ছে কেউ আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরেছে।
তাই পিছনে ফিরে তাকালাম।
কিন্তু একি পরীটার চোখেঁ জল কেন।
পরীটাও কি তাহলে আমাকে চড় দেওয়ার অপরাধে কাদছেঁ।
না ও কাদবেঁ কেন ও তো আমাকে ভালোবাসে না। তাই বলতে লাগলাম।
/
আমি:-হাত ছাড়ো!«অভিমানী সুরে»
/
পরী:-সত্যি বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ইচ্ছা করে চড় মারিনি।
এই প্রথম কেউ আমাকে এই ভাবে ঝরিয়ে ধরলো তাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।নিজেকে কোন ভাবেই তোমার হাত থেকে ছাড়াতে না পেরে চড় মেরেছি।
কিন্তু আমি ইচ্ছা করে মারিনি«কাঁদতে কাঁদতে»
/
আমি:-সত্যি তো।
তুমি ইচ্ছা করে মারোনি।«খুশি হয়ে»।
/
পরী:-সত্যি সত্যি তিন সত্যি।
ইচ্ছা করে মারিনি।
/
আমি:-জানো আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।«অভিমানে সুরে»
/
পরী:-সরি জানু, পরানু।একটু এদিকে আসো তো তোমার কপালে এটা কি«অবাক হয়ে»
/
আমি:-কই কই দেখ কি দেখো তো।বলেই পরী«আখির»মুখের কাছে আমার iখটা নিয়ে গেলাম।
/
পরী:-চোখটা বন্ধ করো তো।«দুষ্টুমির হাসি দিয়ে»
/
আমি:-কে এ ..................!
পুরো কথাটা বলার আগেই পরী আমার ঠোটে তার
ঠোট ঢুবিয়ে দিয়েছে।
হায় হায় এখনো ছাড়ছে না।আজকে মনে হয়ে লিপস্টিক খেতে এসে আমিই লিপস্টিকের ভিতরে হারিয়ে যাবো।
ঐই মিয়া কি দেখেন হু। দেখছেন না পরীর«আখিঁ» লিপস্টিক খাচ্ছি। কালকে আসবেন আজকে ব্যস্ত আছি লিপস্টিক খাওয়াই।
চলবে..............!..........
আগের সবগুলো পর্বই এই গ্রুফে দেয়া হয়েছে।